এক টুকরো কাগজ আর কয়েকটি ভাঁজের মাধ্যমে তৈরি কাগজের প্লেন আজও অনেকের কাছে অম্ল-মধুর শৈশবের স্মৃতি বহন করে। আজ ২৬ মে, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘কাগজের প্লেন ওড়ানোর দিবস’। যদিও বাংলাদেশে এই দিবসটি খুব আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয় না, তবুও কাগজের প্লেন আমাদের জীবনে এনে দেয় অফুরন্ত আনন্দ। স্কুলের শেষ বেঞ্চে বসে বন্ধুদের দিকে প্লেন ছোড়া, ক্লাসের একঘেয়েমি কাটাতে খাতার পাতা দিয়ে প্লেন বানানো, অথবা বিকেলে ছাদে দাঁড়িয়ে কে কত দূরে প্লেন ওড়াতে পারে—এমন সব স্মৃতি প্রায় সবারই রয়েছে।
আন্তর্জাতিক দিবস ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এই দিনটি মূলত মজার ছলে উদ্যাপন করা হয়। অনেকে নতুন ডিজাইনের প্লেন তৈরি করেন, কেউ দূরত্বের প্রতিযোগিতা করেন, আবার কেউ বাতাসে কতক্ষণ প্লেন ভাসিয়ে রাখা যায়, সেই চ্যালেঞ্জ নেন। কাগজের উড়োজাহাজের ধারণা প্রায় ২ হাজার বছর আগের চীনের সঙ্গে জড়িত, তবে আধুনিক কাগজের প্লেনের সূচনা ধরা হয় ১৯০৯ সালে।
কাগজের প্লেন শুধু শিশুদের খেলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিজ্ঞানের মজার দিকও। একটি কাগজের প্লেন ওড়ার পেছনে চারটি শক্তি কাজ করে: থ্রাস্ট (সামনে ছুড়ে দেওয়া), লিফট (ডানার কারণে ওপরে ওঠা), গ্র্যাভিটি (মাধ্যাকর্ষণ) এবং ড্র্যাগ (বাতাসের বাধা)। এই চারটি শক্তির সমন্বয়েই প্লেন আকাশে উড়ে।
কাগজের প্লেনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু রেকর্ডও রয়েছে। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জো আয়ুব কাগজের উড়োজাহাজ ছুড়ে ২২৬ ফুট ১০ ইঞ্চি দূরে পাঠিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি দল প্রায় ২৫২ ফুট দূরত্বে উড়িয়ে সেই রেকর্ড ভাঙে। সবচেয়ে বেশি সময় বাতাসে ভেসে থাকার রেকর্ডটি হলো ২৯.২ সেকেন্ড। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যায়, বৃষ্টির দিনে বা পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার ফাঁকে একটি কাগজের প্লেন এখনো চমৎকার সঙ্গী হতে পারে, যা আমাদের শৈশবের সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























