ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

পাবনাকে ঘিরে নতুন ‘মেগা সংযোগ’ প্রকল্পের সম্ভাবনা: বদলে যেতে পারে দেশের যোগাযোগ মানচিত্র

দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে পাবনাকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত দুটি বৃহৎ অবকাঠামো প্রস্তাব—‘ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু’ এবং ‘দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ’। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনের পর এটি প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এই দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর থেকে মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে এই উদ্যোগকে একটি সম্ভাবনাময় জাতীয় প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ‘ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু’ এমন একটি বহুমুখী সংযোগ কাঠামো, যা পাবনা, রাজবাড়ী এবং মানিকগঞ্জ অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের ধারণা থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পদ্মা নদী সংলগ্ন বিভিন্ন ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে আরিচা-দৌলতদিয়া, কাজিরহাটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। বিশেষ করে ঈদ, উৎসব বা কৃষি মৌসুমে এই সংকট আরও তীব্র হয়। এতে একদিকে সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক ও বিকল্প সড়ক সংযোগ এখন জাতীয় প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় ‘ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু’কে একটি কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপনের পরপরই বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এগোতে শুরু করে। ১৩ মে সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও চিঠি দিয়ে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে এর প্রভাব তুলে ধরেন। পরদিন ১৪ মে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সরকারি নথিপত্রে দ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেট সংশোধনের দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ: বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও পথসভা

পাবনাকে ঘিরে নতুন ‘মেগা সংযোগ’ প্রকল্পের সম্ভাবনা: বদলে যেতে পারে দেশের যোগাযোগ মানচিত্র

আপডেট সময় : ০৩:২২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে পাবনাকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত দুটি বৃহৎ অবকাঠামো প্রস্তাব—‘ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু’ এবং ‘দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ’। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনের পর এটি প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এই দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর থেকে মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে এই উদ্যোগকে একটি সম্ভাবনাময় জাতীয় প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ‘ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু’ এমন একটি বহুমুখী সংযোগ কাঠামো, যা পাবনা, রাজবাড়ী এবং মানিকগঞ্জ অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের ধারণা থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পদ্মা নদী সংলগ্ন বিভিন্ন ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে আরিচা-দৌলতদিয়া, কাজিরহাটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। বিশেষ করে ঈদ, উৎসব বা কৃষি মৌসুমে এই সংকট আরও তীব্র হয়। এতে একদিকে সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক ও বিকল্প সড়ক সংযোগ এখন জাতীয় প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় ‘ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু’কে একটি কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপনের পরপরই বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এগোতে শুরু করে। ১৩ মে সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও চিঠি দিয়ে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে এর প্রভাব তুলে ধরেন। পরদিন ১৪ মে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সরকারি নথিপত্রে দ…