সাভারের একাধিক পরিবহন মালিকের মুঠোফোনে আসা জরিমানা সংক্রান্ত ভুয়া মেসেজগুলো যাচাই করে দেখা গেছে, এগুলো বিআরটিএ-র কোনো অফিশিয়াল নম্বর থেকে নয়, বরং ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক কলিং কোড (+৬৩) সম্বলিত নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে। মেসেজগুলোতে একটি ভুয়া জরিমানা নম্বর এবং লিংক (https://bsbrtcar-bdpay.sbs) উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে চালক ডেটাবেস ব্লক এবং যানবাহন জব্দ করার মতো আইনি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাভারের ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা মাসুদ রানা এবং প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খানের মতো অনেক ভুক্তভোগী এই মেসেজ পেয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। তারা ওয়েবসাইটে নিজেদের গাড়ির নিবন্ধন নম্বর দেওয়ার পর নিয়ম লঙ্ঘনের ভুয়া তথ্য দেখতে পান, অথচ ঘটনার দিন তাদের গাড়িগুলো গ্যারেজে বা সাভারের বাইরে ছিল। পরবর্তীতে বিআরটিএ-র প্রকৃত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের (https://bsp.brta.gov.bd/login) সাথে মিলিয়ে তারা নিশ্চিত হন যে এটি সম্পূর্ণ একটি জালিয়াতি।

এই প্রতারণার বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সাকের উজ্জামান পরিবহন মালিকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট মূলত ডট জিওভি ডট বিডি (.gov.bd) দিয়ে নিবন্ধিত থাকে, যা এই ভুয়া লিংকে নেই। তাছাড়া বিআরটিএ কখনো বিদেশি নম্বর থেকে দেশের নাগরিকদের বার্তা পাঠায় না। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলমও বিষয়টিকে পুরোপুরি প্রতারণার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে নিশ্চিত করেন যে, এআই চালিত ট্রাফিক মামলার কার্যক্রম কেবল ঢাকা মহানগরীতে শুরু হয়েছে, সাভার বা ঢাকা জেলা পুলিশের আওতাধীন কোনো এলাকায় এমন কোনো ব্যবস্থার প্রচলন নেই। সাধারণ মানুষকে যেকোনো লেনদেন বা জরিমানা পরিশোধের আগে তথ্য যাচাই করার এবং এই ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















