পুলিশ সদর দপ্তর এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান দেশের অপরাধচিত্রের এক ভয়াবহ রূপ প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসেই সারা দেশে ১ হাজার ১৪২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং নারী ও শিশু নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৯৫৮টি। এছাড়া এই চার মাসে ৪ হাজার ৯৯টি চুরি, ১৮৪টি ডাকাতি এবং ৩৪৭টি অপহরণের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে।
অন্যদিকে, বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছিল ৩ হাজার ৭৮৬টি, যা ২০২৪ সালের (৩,৪৪২টি) এবং ২০২৩ সালের (৩,০২৩টি) তুলনায় অনেক বেশি। একই সাথে বিগত ১৬ মাসে দেশে ৫২২টি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, যার একটি বড় অংশই ধর্ষণের পর নৃশংসতার শিকার। এই ক্রমবর্ধমান অপরাধের বাজারে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বছর অন্তত ২১৩ জন পুলিশ সদস্য হামলার মুখে পড়েছেন, যা বাহিনীর মনোবল কমিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অপরাধ বৃদ্ধির এই আবহে আইনি প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রধান দায়ী হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ওয়ারা এবং সাবেক অতিরিক্ত আইজি গোলাম রসুল জানান, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালী আইনজীবীদের মাধ্যমে দ্রুত জামিনে বের হয়ে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।
তবে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার এস এম নাসির উদ্দিন দাবি করেছেন, রাজধানীতে ঘটে যাওয়া প্রতিটি বড় অপরাধের আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রামিসা হত্যার দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়ীর মতো এলাকায় ছিনতাইকারীদের পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, অপরাধ দমনে কেবল পুলিশ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 






















