বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকায় একটি স্থায়ী দূতাবাস বা মিশন স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির রাজধানী প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ষষ্ঠ পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভায় (এফওসি) এই ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈঠক শেষে উভয় দেশের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগের এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত উপ-মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত ডি ই ম্যালকমসন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৩২তম বার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন বৈশ্বিক ও দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, কোভিড-১৯ মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে গত ছয় বছর দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনায় যে স্থবিরতা ছিল, উভয় পক্ষই তা কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়েও একমত হয়েছেন প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রেও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে দুই দেশের ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ‘ক্রিকেট কূটনীতি’র ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার বৃত্তির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার আরও বেশি সুযোগ ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া কৃষি, প্রতিরক্ষা, পরিবহন এবং ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় দেশ। আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর স্বার্থ রক্ষায় এবং ভারত মহাসাগরীয় বলয় সমিতির (আইওআরএ) সদস্য হিসেবে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার বিষয়েও দুই দেশ একমত পোষণ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























