ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নীতি: ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিতকরণ, আটক এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে পুশব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার (২০ মে) নবান্নে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত তিনটি বিশেষ পদক্ষেপ বা ‘ডি’ (ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট)-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে তিনি জানান।

নবান্নে সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ১৪ মে ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর জন্য বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ থেকেই এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এ ধরনের সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এখন থেকে বাংলায় চিহ্নিতকরণ (ডিটেক্ট), ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া (ডিলিট) এবং ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে মুখ্যমন্ত্রী ‘ডিলিট’ শব্দটির মাধ্যমে ঠিক কী বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট না করলেও, রাজ্য প্রশাসনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর অর্থ সম্ভবত ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশ এখন বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর বিএসএফ তাদের পুশব্যাকের বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে ঢাকা জানিয়েছে, তারা কেবল নথিপত্র দ্বারা যাচাইকৃত নিজস্ব নাগরিকদেরই ফেরত নেবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে এসেছেন এবং ‘নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯’ (সিএএ) এর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন তাদের গ্রেফতার করা হবে না। তবে মুসলিমরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকবেন।

একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আসা অমুসলিম অভিবাসীরা যেমন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানরা সিএএ-র অধীনে ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরেণ্য বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণে এনসিপির গভীর শোক

অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নীতি: ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’

আপডেট সময় : ১১:২৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিতকরণ, আটক এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে পুশব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার (২০ মে) নবান্নে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত তিনটি বিশেষ পদক্ষেপ বা ‘ডি’ (ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট)-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে তিনি জানান।

নবান্নে সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ১৪ মে ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর জন্য বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ থেকেই এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এ ধরনের সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এখন থেকে বাংলায় চিহ্নিতকরণ (ডিটেক্ট), ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া (ডিলিট) এবং ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে মুখ্যমন্ত্রী ‘ডিলিট’ শব্দটির মাধ্যমে ঠিক কী বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট না করলেও, রাজ্য প্রশাসনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর অর্থ সম্ভবত ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশ এখন বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর বিএসএফ তাদের পুশব্যাকের বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে ঢাকা জানিয়েছে, তারা কেবল নথিপত্র দ্বারা যাচাইকৃত নিজস্ব নাগরিকদেরই ফেরত নেবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে এসেছেন এবং ‘নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯’ (সিএএ) এর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন তাদের গ্রেফতার করা হবে না। তবে মুসলিমরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকবেন।

একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আসা অমুসলিম অভিবাসীরা যেমন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানরা সিএএ-র অধীনে ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।