বেইজিংয়ে মার্কিন ও চীনা প্রেসিডেন্টদের শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়। এতে জানানো হয়, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে তার বর্তমান পদের পাশাপাশি ‘চীন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা ইরানি রাজনীতিতে তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই পদটি প্রয়াত আলি লারিজানির হাতে ছিল, যিনি চীনের সঙ্গে ইরানের ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। লারিজানির আকস্মিক মৃত্যুর পর গালিবাফের এই নতুন দায়িত্ব লাভ, বিশেষ করে পার্লামেন্ট পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেওয়ার পর, তার হাতে ক্ষমতার এমন এক কেন্দ্রীভবন ঘটাচ্ছে যা পশ্চিমা বিশ্লেষকদের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
পশ্চিমা বিশ্লেষকরা গালিবাফকে নিয়ে বরাবরই দ্বিধায় ছিলেন। তাদের আলোচনায় সাধারণত তার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অতীত এবং প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে দুটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিনি কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান তৈরি করেছেন এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করছেন, তা প্রায়শই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এই উত্থান আয়াতুল্লাহ খামেনি পরবর্তী ইরানের আসল ক্ষমতার উৎস সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।
গালিবাফের এই উত্থান আকস্মিক নয়। একটি সংঘাতপূর্ণ সময়ে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন। যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার হিসেবে নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রাধিকারগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে সামলানো এবং সামরিক বাহিনী যখন যুদ্ধরত, তখন পার্লামেন্টকে সচল রাখার দক্ষতার কারণে তিনি এই আস্থা অর্জন করেন। খামেনির যখন এমন একজন মানুষের প্রয়োজন ছিল যিনি একই সঙ্গে কমান্ডার, আইনপ্রণেতা, কূটনীতিক এবং জনগণের সঙ্গে নির্ভরযোগ্যভাবে কথা বলতে পারবেন, তখন গালিবাফই ছিলেন একমাত্র উপযুক্ত ব্যক্তি।
রিপোর্টারের নাম 
























