ঢাকার নাগরিক পরিসরে হকার উচ্ছেদ আন্দোলন নতুন করে শ্রেণি-সংঘাত ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তথাকথিত পরিপাটি শহরের আকাঙ্ক্ষা বনাম শ্রমজীবী মানুষের জীবনধারণের বাস্তবতার এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। সম্প্রতি শাহবাগে একজন নারীর ‘ঢাকা বাঁচাও, হকার হটাও’ স্লোগানে একক প্রতিবাদ এবং এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হকারদের বিরুদ্ধে ছাত্র প্রতিনিধিদের তৎপরতা এই বিতর্কের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে।
নগর পরিকল্পনায় অভিজাত ও উচ্চবিত্তের সুবিধাভোগী শ্রেণির পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা প্রায়শই দেখা যায়। এর ফলে বস্তি উচ্ছেদ করে পার্ক বা শপিং মল তৈরির প্রস্তাব আসে, যা নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। এই ধরনের মানসিকতা নগরকে কেবল উচ্চবিত্তের বাণিজ্য ও উপভোগের কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায়, যেখানে শ্রমজীবী মানুষের স্থান সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
এই আন্দোলনের পেছনে কাজ করছে এক ধরনের ‘নান্দনিক শ্রেণিবিদ্বেষ’, যা শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে (যেমন গুলশান-বনানী) অভিজাতদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে চায়। অথচ একই শহরের ভিন্ন প্রান্তে শ্রমজীবী মানুষের জন্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা ও জীবনযাপনের সুযোগের অভাব রয়েছে। এই দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি শহরের প্রতিটি কোণে শ্রেণিগত বিভাজনকে প্রকট করে তোলে এবং সামাজিক মাধ্যমেও এর পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























