মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ আজ সকালে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
এর আগে গতকাল রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকায় এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন সদস্য জানান, ওমানে মারা যাওয়া চার ভাইয়ের লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে। বেলা ১১টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে কবর খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় প্রবাসীদের বরাত দিয়ে আরও জানানো হয়, গাড়ির ভেতর থেকে চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত করেছে ওমান পুলিশ। প্রবাসীরা ধারণা করছেন, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এটির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলে ওই চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃত চার ভাই হলেন– রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাদের বাবার নাম মৃত জামাল উদ্দিন। রাশেদুল ও শাহেদুল বিবাহিত ছিলেন, আর সিরাজুল ও শহিদুল ছিলেন অবিবাহিত। পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার জনই ওমানে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। আরেক ভাই এনাম দেশে রয়েছেন। পরিবারে আছেন অসুস্থ বৃদ্ধা মা।
গত সপ্তাহে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় পার্কিংয়ে থাকা গাড়ির ভেতর থেকে এই চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে সে দেশের পুলিশ। তাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























