ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ চলবে না: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের পর বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার (১৭ মে) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির এই ভূমিকে ভয় বা জোর খাটিয়ে শাসন করা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন যে, সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের উপর প্রতিষ্ঠিত একটি রাজ্যে বুলডোজার শাসনের ভাষা হতে পারে না। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে হকারদের দোকানপাট উচ্ছেদ করে রাজনৈতিক অহংকারের চড়া মূল্য সাধারণ মানুষকে চোকাতে হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলা বুলডোজার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং সাধারণ নাগরিকদের উচ্ছেদ অভিযান, ভয় প্রদর্শন বা জোর খাটিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির ভূমি শাসন করা সম্ভব নয়।

পার্ক সার্কাসে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর এবং হাওড়া স্টেশনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিবৃতিটি দেওয়া হয়। মমতা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বাংলার মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাত। দিনমজুর, হকার, ছোট দোকানদার এবং সংগ্রামী পরিবারগুলো যারা অক্লান্ত পরিশ্রমে নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিল, তারা আজ আক্রান্ত। হাওড়া স্টেশনের আশেপাশে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান, তিলজলা ও পার্ক সার্কাসের রাস্তায় সৃষ্ট ক্ষোভ-অশান্তি এবং আকস্মিকভাবে আশ্রয় ও জীবিকা হারানো মানুষের ক্রমবর্ধমান হাহাকার প্রমাণ করে যে, এই সরকার মানবতার চেয়ে প্রচারের বিষয়ে বেশি মনোযোগী।

বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে সরকার আগে উচ্ছেদ করে এবং পরে কথা শোনে, তারা বাংলার মূল চেতনাকেই ভুলে গেছে। তিনি মনে করেন, একটি রাজ্য তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তা দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি পরিমাপ করা হয়, তাদের কত দ্রুত মুছে ফেলা যাচ্ছে, তা দিয়ে নয়।

অন্যদিকে, রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র নবান্নের অধীনে থাকা স্থানীয় প্রশাসন দাবি করছে যে, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো কেবলই ‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান’। উল্লেখ্য, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২০৭টি আসন) নিয়ে সরকার গঠন করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৮০-তে। নতুন বিজেপি সরকার গঠনের দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের পতাকায় কালেমা: প্রোটোকল ভেঙে ফিফার সম্মান প্রদর্শন

পশ্চিমবঙ্গে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ চলবে না: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ১২:১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের পর বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার (১৭ মে) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির এই ভূমিকে ভয় বা জোর খাটিয়ে শাসন করা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন যে, সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের উপর প্রতিষ্ঠিত একটি রাজ্যে বুলডোজার শাসনের ভাষা হতে পারে না। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে হকারদের দোকানপাট উচ্ছেদ করে রাজনৈতিক অহংকারের চড়া মূল্য সাধারণ মানুষকে চোকাতে হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলা বুলডোজার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং সাধারণ নাগরিকদের উচ্ছেদ অভিযান, ভয় প্রদর্শন বা জোর খাটিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির ভূমি শাসন করা সম্ভব নয়।

পার্ক সার্কাসে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর এবং হাওড়া স্টেশনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিবৃতিটি দেওয়া হয়। মমতা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বাংলার মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাত। দিনমজুর, হকার, ছোট দোকানদার এবং সংগ্রামী পরিবারগুলো যারা অক্লান্ত পরিশ্রমে নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিল, তারা আজ আক্রান্ত। হাওড়া স্টেশনের আশেপাশে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান, তিলজলা ও পার্ক সার্কাসের রাস্তায় সৃষ্ট ক্ষোভ-অশান্তি এবং আকস্মিকভাবে আশ্রয় ও জীবিকা হারানো মানুষের ক্রমবর্ধমান হাহাকার প্রমাণ করে যে, এই সরকার মানবতার চেয়ে প্রচারের বিষয়ে বেশি মনোযোগী।

বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে সরকার আগে উচ্ছেদ করে এবং পরে কথা শোনে, তারা বাংলার মূল চেতনাকেই ভুলে গেছে। তিনি মনে করেন, একটি রাজ্য তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তা দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি পরিমাপ করা হয়, তাদের কত দ্রুত মুছে ফেলা যাচ্ছে, তা দিয়ে নয়।

অন্যদিকে, রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র নবান্নের অধীনে থাকা স্থানীয় প্রশাসন দাবি করছে যে, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো কেবলই ‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান’। উল্লেখ্য, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২০৭টি আসন) নিয়ে সরকার গঠন করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৮০-তে। নতুন বিজেপি সরকার গঠনের দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে।