ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিএনপি-জামায়াতের বিরোধিতা কি শুধুই লোক দেখানো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন

নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র বিরোধিতা দেখা গেলেও সরকার গঠনের পর তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটি দুটি সরকার ও বিরোধী আসনে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘বোঝাপড়া’ বিদ্যমান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি এবং বিরোধী দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে একটি অলিখিত ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বৈঠক, জ্বালানি ইস্যু, বিরোধী সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প, এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিচার-সালিশ ও হাট-বাজার ইজারার মতো বেশ কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের মতে, বাহ্যিকভাবে বিরোধিতা দেখা গেলেও অভ্যন্তরীণভাবে তাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রয়েছে।

পূর্বে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দীর্ঘদিনের মিত্রতা ছিল এবং গত দুই দশক ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের রাজনৈতিক পথ আলাদা হয়ে যায়। নির্বাচনের প্রচারণায় দুই দলের শীর্ষ নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুড়েন। বিএনপি জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ এবং জামায়াত নেতারা বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করেন। এমনকি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে নির্বাচনের পর এই চিত্র অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে।

সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘আমরা বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করব না। সরকারের ভালো কাজেরও প্রশংসা করব’ – এমন বক্তব্যের পর এই আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন ঐক্যকে সময়োপযোগী বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেছেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি ভঙ্গুর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট – সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়। তাই দেশের স্বার্থে সরকার যদি বাণিজ্যিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায়, সেটি ইতিবাচক হলে অবশ্যই বিরোধী দলের সহযোগিতা করা উচিত। আর আওয়ামী লীগ প্রশ্নেও তাদের বোঝাপড়া থাকা দরকার। কারণ দুইপক্ষই বিগত দিনে নির্যাতিত হয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজনে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্য জরুরি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের পতাকায় কালেমা: প্রোটোকল ভেঙে ফিফার সম্মান প্রদর্শন

বিএনপি-জামায়াতের বিরোধিতা কি শুধুই লোক দেখানো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১২:৪৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র বিরোধিতা দেখা গেলেও সরকার গঠনের পর তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটি দুটি সরকার ও বিরোধী আসনে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘বোঝাপড়া’ বিদ্যমান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি এবং বিরোধী দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে একটি অলিখিত ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বৈঠক, জ্বালানি ইস্যু, বিরোধী সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প, এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিচার-সালিশ ও হাট-বাজার ইজারার মতো বেশ কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের মতে, বাহ্যিকভাবে বিরোধিতা দেখা গেলেও অভ্যন্তরীণভাবে তাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রয়েছে।

পূর্বে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দীর্ঘদিনের মিত্রতা ছিল এবং গত দুই দশক ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের রাজনৈতিক পথ আলাদা হয়ে যায়। নির্বাচনের প্রচারণায় দুই দলের শীর্ষ নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুড়েন। বিএনপি জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ এবং জামায়াত নেতারা বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করেন। এমনকি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে নির্বাচনের পর এই চিত্র অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে।

সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘আমরা বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করব না। সরকারের ভালো কাজেরও প্রশংসা করব’ – এমন বক্তব্যের পর এই আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন ঐক্যকে সময়োপযোগী বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেছেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি ভঙ্গুর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট – সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়। তাই দেশের স্বার্থে সরকার যদি বাণিজ্যিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায়, সেটি ইতিবাচক হলে অবশ্যই বিরোধী দলের সহযোগিতা করা উচিত। আর আওয়ামী লীগ প্রশ্নেও তাদের বোঝাপড়া থাকা দরকার। কারণ দুইপক্ষই বিগত দিনে নির্যাতিত হয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজনে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্য জরুরি।’