ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

প্রভাবশালী চক্রের দখল থেকে সরকারি পাইলট স্কুলের ২৫ কোটি টাকার জমি উদ্ধার

বগুড়ার শিবগঞ্জে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী চক্রের দখলে থাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ শতক জমি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে দখলকৃত এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি প্রভাবশালীদের দখলে ছিল, যেখানে তারা মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে অবৈধভাবে বাণিজ্য চালাচ্ছিল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বারবার দাবি উপেক্ষা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি আজিজুল হকসহ প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর ধরে জোরপূর্বক এই জমি দখল করে রেখেছিলেন। তাদের দখলে প্রায় ২০ শতক জমি ছিল। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি আনলে তিনি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তদন্তে স্কুলের জমি দখলের সত্যতা পাওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শনিবার সকাল ৮টা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। এ সময় এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, তারা স্কুলের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। অবশেষে জমিটি উদ্ধার হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানে দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসান ঘটেছে এবং স্কুলের সম্পদ ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্তপূর্বক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে আজ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ: প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান

প্রভাবশালী চক্রের দখল থেকে সরকারি পাইলট স্কুলের ২৫ কোটি টাকার জমি উদ্ধার

আপডেট সময় : ১০:১৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী চক্রের দখলে থাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ শতক জমি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে দখলকৃত এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি প্রভাবশালীদের দখলে ছিল, যেখানে তারা মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে অবৈধভাবে বাণিজ্য চালাচ্ছিল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বারবার দাবি উপেক্ষা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি আজিজুল হকসহ প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর ধরে জোরপূর্বক এই জমি দখল করে রেখেছিলেন। তাদের দখলে প্রায় ২০ শতক জমি ছিল। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি আনলে তিনি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তদন্তে স্কুলের জমি দখলের সত্যতা পাওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শনিবার সকাল ৮টা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। এ সময় এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, তারা স্কুলের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। অবশেষে জমিটি উদ্ধার হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানে দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসান ঘটেছে এবং স্কুলের সম্পদ ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্তপূর্বক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।