তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান জন্মনিয়ন্ত্রণকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দেশের জন্মহার কমে যাওয়াকে একটি ‘বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বরাবরই তুর্কি নাগরিকদের অধিক সন্তান নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে আসছেন। এরদোয়ানের মতে, একটি শক্তিশালী তুরস্কের জন্য অন্তত চার বা পাঁচটি সন্তান থাকা উচিত, যা দেশকে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তবে, এরদোয়ানের এই আহ্বান সত্ত্বেও তুরস্কের মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate) এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কমছে। বর্তমানে এটি ২.১-এর নিচে নেমে গেছে, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় হার। বিশ্লেষকদের মতে, এরদোয়ানের এই নীতির পেছনে কেবল অর্থনৈতিক কারণই নয়, বরং একটি রক্ষণশীল ইসলামি পারিবারিক কাঠামোর প্রচারও কাজ করছে। এই ভাবনায় কর্মজীবী নারী বা সন্তান গ্রহণে অনিচ্ছুক দম্পতিদের জন্য বিশেষ কোনো স্থান নেই।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এর আগেও এমন মন্তব্য করেছেন। ২০২২ সালে সংসদে নবনির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ‘সন্তান কয়টি?’ সংসদ সদস্যের উত্তর ‘একটি’ শুনে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়াতে হবে।’
জনসংখ্যাতাত্ত্বিকরা বলছেন, জন্মহার হ্রাসের পেছনে নগরায়ন, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং অর্থনৈতিক চাপ অন্যতম কারণ। বিশেষ করে, টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কম মজুরির কারণে অনেক পরিবারের জন্য জীবনধারণ এবং সন্তান লালন-পালনের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















