সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ছাত্রছাত্রীদের আবেগঘন ভিড় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরা হয়েছিল, তা দেখে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের এমন পরিস্থিতিতে পড়ার ঘটনা বিরল।
ক্ষমতা যেমন মানুষকে জনপরিসর থেকে দূরে রাখে, তেমনি কখনো কখনো জনগণের অন্ধ ভালোবাসা একজন নেতাকে বিপদ ও আপদের শেষ সীমায় ঠেলে দিতে পারে। ইতিহাসের পাতায় বহু নেতা জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছেন, কিন্তু সেই ভালোবাসার আবেগঘন ভিড়ই অনেক সময় পরিণত হয়েছে মৃত্যুর ফাঁদে।
একজন প্রধানমন্ত্রী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি রাষ্ট্রের প্রতীক। তার জীবন শুধু তার ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং পুরো জাতির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণেই পৃথিবীর সব সভ্য রাষ্ট্রে নিরাপত্তা উপদেষ্টার পরামর্শকে প্রায় চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যখন হাজারো আবেগী মানুষ ভিড় করে, তখন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বন্ধু ও শত্রুর পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একজন আততায়ী কখনোই শত্রুর মুখোশ পরে আসে না; বরং সে সমর্থকের ভিড়ের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামান্যতম অসতর্কতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ঘটনা আজও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ শিক্ষা হয়ে আছে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি সাধারণ সমর্থকদের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। একজন নারী সমর্থক ফুলের মালা পরানোর ভান করে তার কাছে এগিয়ে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণে নিহত হন রাজীব গান্ধী। এই মর্মান্তিক ঘটনা ভিআইপি নিরাপত্তার গুরুত্বকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
রিপোর্টারের নাম 

























