ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢল: বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, বন্যা ও ফসলহানির শঙ্কা

ভোররাত থেকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত দফায় দফায় ভারী বর্ষণ এবং তীব্র স্রোতের কারণে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীতে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। এতে চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫৩ সেন্টিমিটার এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৪১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও জানিয়েছে, গত রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত নালিতাবাড়ীতে ৯০ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁওয়ে ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নদী দুটির পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিকেল পর্যন্ত নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা ভাঙন ও আকস্মিক বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বোরো চাষীরাও ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের মতে, চলতি মৌসুমের অসময়ের টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের বোরো ফসল পানিতে নিমজ্জিত হলেও পরবর্তীতে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। তবে, উপজেলার দক্ষিণ রানীগাঁও গ্রামের কৃষক শামছুদ্দিন জানিয়েছেন, তার তিন একর বোরো ফসল পানিতে ডুবে সম্পূর্ণ পঁচে গেছে।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬০ ভাগ বোরো ফসল কাটা শেষ হয়েছে। যদি নতুন করে আর ভারী বর্ষণ না হয়, তবে ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হলিউডে প্রিয়াঙ্কা-অরল্যান্ডো ব্লুমের নতুন থ্রিলার ‘রিসেট’

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢল: বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, বন্যা ও ফসলহানির শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ভোররাত থেকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত দফায় দফায় ভারী বর্ষণ এবং তীব্র স্রোতের কারণে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীতে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। এতে চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫৩ সেন্টিমিটার এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৪১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও জানিয়েছে, গত রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত নালিতাবাড়ীতে ৯০ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁওয়ে ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নদী দুটির পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিকেল পর্যন্ত নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা ভাঙন ও আকস্মিক বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বোরো চাষীরাও ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের মতে, চলতি মৌসুমের অসময়ের টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের বোরো ফসল পানিতে নিমজ্জিত হলেও পরবর্তীতে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। তবে, উপজেলার দক্ষিণ রানীগাঁও গ্রামের কৃষক শামছুদ্দিন জানিয়েছেন, তার তিন একর বোরো ফসল পানিতে ডুবে সম্পূর্ণ পঁচে গেছে।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬০ ভাগ বোরো ফসল কাটা শেষ হয়েছে। যদি নতুন করে আর ভারী বর্ষণ না হয়, তবে ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।