ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

কোমরসমান পানিতে বোরো ধান কাটছেন রংপুরের কৃষকরা: সংগ্রাম ও পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিচু জমিগুলো এখন বোরো ধানের সোনালী স্বপ্নে প্লাবিত। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে। অতিবৃষ্টি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক জমিতেই কোমরসমান পানি জমে গেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কৃষকরা পরিবারের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একসঙ্গে নেমে পড়েছেন পাকা ধান কাটতে। কোথাও কোথাও হাঁড়ি-পাতিল বা ছোট পাত্র ভাসিয়ে কাটা ধান নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। এই চিত্রটি গ্রামীণ জীবনের কঠিন সংগ্রাম এবং কৃষকের নিরলস পরিশ্রমের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে।

উপজেলার সদর বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া কামারটারী এলাকার কৃষক প্রাণ কৃষ্ণ জানান, শ্রমিক scarcity এবং অতিবৃষ্টির কারণে তার জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পানিতে নেমে ধান কাটার কাজে যুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আর যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি অনেক বেশি। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ধান ডুবে গেছে। দেরি করলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে, তাই পরিবারের নারী-পুরুষ সবাইকে নিয়েই মাঠে নেমেছি।”

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং জমিতে পানি জমে থাকার কারণে যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়েই পানির মধ্যে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে, যা সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় করছে। তবে কষ্ট হলেও ফসল ঘরে তোলার জন্য এই বিকল্পহীন পথ বেছে নিতে হচ্ছে।

অনেক এলাকায় পানি না নামায় কাটা ধান শুকানো নিয়েও কৃষকদের মধ্যে নতুন দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা এই প্রতিকূল পরিবেশেও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেছেন যে, এই পরিশ্রমই দেশের খাদ্য উৎপাদন সচল রাখছে। গ্রামের মাঠে এমন দৃশ্য কৃষকের সংগ্রামী জীবন, কঠোর পরিশ্রম ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। তারা আরও জানান, আবহাওয়া যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয় এবং পানি দ্রুত নেমে না যায়, তবে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়ালটনের নতুন ৪ মডেলের স্মার্ট ওয়াশিং মেশিন বাজারে

কোমরসমান পানিতে বোরো ধান কাটছেন রংপুরের কৃষকরা: সংগ্রাম ও পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিচু জমিগুলো এখন বোরো ধানের সোনালী স্বপ্নে প্লাবিত। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে। অতিবৃষ্টি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক জমিতেই কোমরসমান পানি জমে গেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কৃষকরা পরিবারের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একসঙ্গে নেমে পড়েছেন পাকা ধান কাটতে। কোথাও কোথাও হাঁড়ি-পাতিল বা ছোট পাত্র ভাসিয়ে কাটা ধান নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। এই চিত্রটি গ্রামীণ জীবনের কঠিন সংগ্রাম এবং কৃষকের নিরলস পরিশ্রমের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে।

উপজেলার সদর বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া কামারটারী এলাকার কৃষক প্রাণ কৃষ্ণ জানান, শ্রমিক scarcity এবং অতিবৃষ্টির কারণে তার জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পানিতে নেমে ধান কাটার কাজে যুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আর যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি অনেক বেশি। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ধান ডুবে গেছে। দেরি করলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে, তাই পরিবারের নারী-পুরুষ সবাইকে নিয়েই মাঠে নেমেছি।”

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং জমিতে পানি জমে থাকার কারণে যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়েই পানির মধ্যে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে, যা সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় করছে। তবে কষ্ট হলেও ফসল ঘরে তোলার জন্য এই বিকল্পহীন পথ বেছে নিতে হচ্ছে।

অনেক এলাকায় পানি না নামায় কাটা ধান শুকানো নিয়েও কৃষকদের মধ্যে নতুন দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা এই প্রতিকূল পরিবেশেও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেছেন যে, এই পরিশ্রমই দেশের খাদ্য উৎপাদন সচল রাখছে। গ্রামের মাঠে এমন দৃশ্য কৃষকের সংগ্রামী জীবন, কঠোর পরিশ্রম ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। তারা আরও জানান, আবহাওয়া যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয় এবং পানি দ্রুত নেমে না যায়, তবে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।