ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

সাদত হাসান মান্টো: পেরিন ও ব্রিজমোহনের অদ্ভুত সম্পর্ক

বম্বেতে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটছিল লেখকের। একটি ছোট্ট ‘খোলি’-তে থাকতেন, যেখানে জলের বা বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। রাত্রিবেলা ছারপোকা, আরশোলা আর বিশাল আকারের ইঁদুরের উপদ্রব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। পট্টির সবার জন্য একটিমাত্র কমন বাথরুম ছিল, যার দরজা কখনো বন্ধ হতো না। প্রতিদিন ভোরবেলা গুজরাটি, মারাঠি, ইহুদি, খ্রিষ্টান—বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মেয়েরা সেখানে পানি সংগ্রহ করতে ভিড় করত। লেখক সাধারণত মেয়েদের ঘুম থেকে ওঠার আগেই বাথরুমের কাজ সেরে ফেলতেন, কিন্তু একদিন ঘুম ভাঙতে দেরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে দরজা খোলাই রেখে বাথরুমে ঢুকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে এক প্রতিবেশী মহিলা পানি নিতে এসে থমকে যান এবং ভয় পেয়ে কলসি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। লেখক বাথরুমে দাঁড়িয়ে হাসিতে ফেটে পড়েন।

কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমের দরজা খুলে ভেতরে আসে ব্রিজমোহন। ততক্ষণে লেখকের গোসল শেষ, তিনি জামাকাপড় পরছেন। ব্রিজমোহন শুধু বলে, “আজ রোববার।” এই কথা শুনেই লেখকের মনে পড়ে যায় যে প্রতি রোববার ব্রিজমোহনকে বান্দ্রা যেতে হয় পেরিনের সঙ্গে দেখা করতে। পেরিন ছিল এক সাধারণ পারসি মেয়ে, যার সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে ব্রিজমোহন এক অদ্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে আছে। প্রতি রোববার আট আনা ধার করে ব্রিজমোহন বান্দ্রায় যেত শুধু পেরিনের পাশে বসে ‘ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অফ ইন্ডিয়া’-এর ‘ক্রসওয়ার্ড পাজল’ সমাধান করতে।

বেকার ব্রিজমোহন বাড়িতে একা থাকলেও পেরিনের এই ধাঁধাগুলো নিয়েই মেতে থাকত। তার বুদ্ধিতে পেরিন অনেক পুরস্কার জিতলেও, ব্রিজমোহনকে কখনো তার এক আনা ভাগও দেয়নি। তবুও ব্রিজমোহন পেরিনকে ভালোবাসত। ফটোগ্রাফার ব্রিজমোহনের কাছে পেরিনের ছবির এক বিপুল সংগ্রহ ছিল—নানা ভঙ্গিমায়, নানারকম সাজে। কখনো টাইট শার্ট ও সালোয়ারে, কখনো শাড়িতে, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে, এমনকি গোসলের পোশাকেও। সত্যি বলতে, পেরিন দেখতে তেমন রূপসি ছিল না; কিন্তু লেখক কখনো মুখ ফুটে ব্রিজমোহনকে সে কথা বলেননি। মেয়েটি সম্পর্কে লেখকের কখনো বাড়তি কোনো কৌতূহলও ছিল না—সে কে, কী করে, কীভাবে তাদের আলাপ বা আদৌ তাদের বিয়ে হবে কি না, এসব নিয়ে তিনি ভাবতেন না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারীতে নছিমন উল্টে চালক নিহত, আহত ১

সাদত হাসান মান্টো: পেরিন ও ব্রিজমোহনের অদ্ভুত সম্পর্ক

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বম্বেতে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটছিল লেখকের। একটি ছোট্ট ‘খোলি’-তে থাকতেন, যেখানে জলের বা বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। রাত্রিবেলা ছারপোকা, আরশোলা আর বিশাল আকারের ইঁদুরের উপদ্রব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। পট্টির সবার জন্য একটিমাত্র কমন বাথরুম ছিল, যার দরজা কখনো বন্ধ হতো না। প্রতিদিন ভোরবেলা গুজরাটি, মারাঠি, ইহুদি, খ্রিষ্টান—বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মেয়েরা সেখানে পানি সংগ্রহ করতে ভিড় করত। লেখক সাধারণত মেয়েদের ঘুম থেকে ওঠার আগেই বাথরুমের কাজ সেরে ফেলতেন, কিন্তু একদিন ঘুম ভাঙতে দেরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে দরজা খোলাই রেখে বাথরুমে ঢুকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে এক প্রতিবেশী মহিলা পানি নিতে এসে থমকে যান এবং ভয় পেয়ে কলসি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। লেখক বাথরুমে দাঁড়িয়ে হাসিতে ফেটে পড়েন।

কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমের দরজা খুলে ভেতরে আসে ব্রিজমোহন। ততক্ষণে লেখকের গোসল শেষ, তিনি জামাকাপড় পরছেন। ব্রিজমোহন শুধু বলে, “আজ রোববার।” এই কথা শুনেই লেখকের মনে পড়ে যায় যে প্রতি রোববার ব্রিজমোহনকে বান্দ্রা যেতে হয় পেরিনের সঙ্গে দেখা করতে। পেরিন ছিল এক সাধারণ পারসি মেয়ে, যার সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে ব্রিজমোহন এক অদ্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে আছে। প্রতি রোববার আট আনা ধার করে ব্রিজমোহন বান্দ্রায় যেত শুধু পেরিনের পাশে বসে ‘ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অফ ইন্ডিয়া’-এর ‘ক্রসওয়ার্ড পাজল’ সমাধান করতে।

বেকার ব্রিজমোহন বাড়িতে একা থাকলেও পেরিনের এই ধাঁধাগুলো নিয়েই মেতে থাকত। তার বুদ্ধিতে পেরিন অনেক পুরস্কার জিতলেও, ব্রিজমোহনকে কখনো তার এক আনা ভাগও দেয়নি। তবুও ব্রিজমোহন পেরিনকে ভালোবাসত। ফটোগ্রাফার ব্রিজমোহনের কাছে পেরিনের ছবির এক বিপুল সংগ্রহ ছিল—নানা ভঙ্গিমায়, নানারকম সাজে। কখনো টাইট শার্ট ও সালোয়ারে, কখনো শাড়িতে, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে, এমনকি গোসলের পোশাকেও। সত্যি বলতে, পেরিন দেখতে তেমন রূপসি ছিল না; কিন্তু লেখক কখনো মুখ ফুটে ব্রিজমোহনকে সে কথা বলেননি। মেয়েটি সম্পর্কে লেখকের কখনো বাড়তি কোনো কৌতূহলও ছিল না—সে কে, কী করে, কীভাবে তাদের আলাপ বা আদৌ তাদের বিয়ে হবে কি না, এসব নিয়ে তিনি ভাবতেন না।