দেশের প্রখ্যাত নাট্যজন আতাউর রহমান আর নেই। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলা নাট্যাঙ্গনের এক অবিস্মরণীয় নাম ছিলেন আতাউর রহমান। অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক হিসেবে প্রতিটি পরিচয়েই তিনি ছিলেন অনন্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি বাংলাদেশের মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক ও নাট্যচর্চাকে শুধু সমৃদ্ধই করেননি, বরং একটি প্রজন্মকে পথও দেখিয়েছেন।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীর ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। শৈশব থেকেই সাহিত্য, অভিনয় ও সংস্কৃতির প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও জীবনের প্রকৃত ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন নাটককে। ষাটের দশকে তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশের আধুনিক নাট্যআন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।
স্বাধীনতা-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যাঁরা কাজ করেছেন, আতাউর রহমান তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক নির্দেশনা ও নাট্যরচনায় সমান দক্ষতা দেখান। তাঁর নির্মাণে সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংকট, রাজনৈতিক অভিঘাত ও মধ্যবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন উঠে এসেছে সংবেদনশীল ভাষায়। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ছিল দৃঢ় অথচ সংযত। সংলাপ উচ্চারণ, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং অভিনয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতার জন্য তিনি আলাদা মর্যাদা লাভ করেন। টেলিভিশন নাটকেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। বিটিভির স্বর্ণালি সময়ে তাঁর অভিনীত অসংখ্য নাটক দর্শকের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। নাট্যসংগঠক হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশ সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (BCITI)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের নাট্যচর্চাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 

























