ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মার্কিন কর্মকর্তাদের গুরুতর অভিযোগ: ইরানকে সামরিক সুবিধা দেওয়ার তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনার মাঝে পাকিস্তান নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে তারা ইরানকে সামরিক সুবিধা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সংঘাতের সময় গোপনে ইরানি সামরিক বিমানকে নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানের সুযোগ দিয়েছিল পাকিস্তান।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। সেখানে অবস্থান করা বিমানগুলোর মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনীর একটি আরসি-১৩০ রিকনেসান্স বিমানও ছিল, যা মূলত নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মুখে মার্কিন হামলা থেকে নিজেদের মূল্যবান বিমান ও সামরিক সম্পদ রক্ষা করতেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এই প্রতিবেদন সত্য হলে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েল সম্পর্কে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পূর্ববর্তী কিছু বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই খবরটি সত্য হলে তিনি অবাক হবেন না।

এদিকে, ইরান প্রতিবেশী আফগানিস্তানেও বেসামরিক বিমান সরিয়ে নিয়েছিল বলে জানিয়েছে সিবিএস। তবে ওই ফ্লাইটগুলোর সঙ্গে সামরিক বিমান ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

অন্যদিকে নূর খান বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এমন কার্যক্রম গোপন রাখা সম্ভব নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মার্কিন কর্মকর্তাদের গুরুতর অভিযোগ: ইরানকে সামরিক সুবিধা দেওয়ার তথ্য ফাঁস

আপডেট সময় : ১০:৩৭:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনার মাঝে পাকিস্তান নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে তারা ইরানকে সামরিক সুবিধা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সংঘাতের সময় গোপনে ইরানি সামরিক বিমানকে নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানের সুযোগ দিয়েছিল পাকিস্তান।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। সেখানে অবস্থান করা বিমানগুলোর মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনীর একটি আরসি-১৩০ রিকনেসান্স বিমানও ছিল, যা মূলত নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মুখে মার্কিন হামলা থেকে নিজেদের মূল্যবান বিমান ও সামরিক সম্পদ রক্ষা করতেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এই প্রতিবেদন সত্য হলে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েল সম্পর্কে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পূর্ববর্তী কিছু বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই খবরটি সত্য হলে তিনি অবাক হবেন না।

এদিকে, ইরান প্রতিবেশী আফগানিস্তানেও বেসামরিক বিমান সরিয়ে নিয়েছিল বলে জানিয়েছে সিবিএস। তবে ওই ফ্লাইটগুলোর সঙ্গে সামরিক বিমান ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

অন্যদিকে নূর খান বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এমন কার্যক্রম গোপন রাখা সম্ভব নয়।