দেশের বিদ্যমান বেকারত্ব দূর করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতি বছর শ্রমবাজারে ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন মুখ যুক্ত হলেও কর্মসংস্থানের অভাবে একটি বড় অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। এই সংকট নিরসনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্রে জানা গেছে, এই এক কোটি কর্মসংস্থানের মধ্যে ৮০ লাখই তৈরি হবে বেসরকারি খাতে। বিশেষ করে সেবা, শিল্প ও কৃষি খাতকে এই পরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য থাকা ৫ লাখ পদে নিয়োগ এবং বিদেশে আরও ১৫ লাখ জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সরকারের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু বড় বাধা দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, বর্তমানে অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা, উচ্চ সুদের হার এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই প্রতিকূল পরিবেশ কাটিয়ে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় সাত কোটি মানুষ কর্মসংস্থানে নিয়োজিত। ২০৩১ সালের মধ্যে কৃষিতে আরও ১০ লাখ, শিল্প খাতে ২৫ লাখ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতসহ সেবা খাতে আরও ৪০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই রূপরেখা বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রিপোর্টারের নাম 






















