পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তটি হলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য আটকে থাকা জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) হস্তান্তরের নির্দেশ।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় এই জমি অধিগ্রহণ ইস্যুটি ছিল অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার অভিযোগ করেছিলেন যে, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই জমি হস্তান্তরে বাধা দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে এই প্রকল্পগুলো আটকে রেখেছিল। আমরা সেই সব বাধা অপসারণ করেছি।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমএইচএ) সংসদীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তের প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে। গত আগস্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদে জানায়, পশ্চিমবঙ্গের ৫৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও কাঁটাতারবিহীন। এর মধ্যে ১১২.৭৮০ কিমি এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব নয় এবং ৪৫৬.২২৪ কিমি এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যে ৪৫৬ কিমি এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব, তার মধ্যে মাত্র ৭৭.৯৩৫ কিমি জমি নির্মাণ সংস্থাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৩৭৮.২৮৯ কিমি এলাকার মধ্যে ১৪৮.৯৭১ কিমি জমির জন্য রাজ্য সরকার এখনও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেনি। বাকি ২২৯.৩১৮ কিমি জমি অধিগ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে আটকে রয়েছে। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষায় দ্রুততা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























