তুরস্ক ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক উষ্ণ করার লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তান ইস্যু এবং কাশ্মির সীমান্তে সংঘাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দ্বাদশ পর্ব শেষ করেছে দিল্লি ও আঙ্কারা। উভয় দেশই এখন বিশ্বাস করছে যে বিবাদের চেয়ে সংলাপই শ্রেয়।
গত বছর আঙ্কারাভিত্তিক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যখন প্রথমবারের মতো ভারত-তুরস্ক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, তখন পরিবেশ ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতিহাসের দোহাই দিয়ে সম্পর্কের নতুন শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বসন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
গত বছর কাশ্মিরে এক ভয়াবহ হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিপরীতে তুরস্ক সরাসরি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ালে দিল্লির সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্কে ফাটল ধরে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তুরস্ককে ‘শত্রু’ হিসেবে চিত্রায়িত করতে শুরু করে এবং অভিযোগ তোলে যে তুরস্ক ইসলামাবাদকে সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পাঠাচ্ছে। যদিও তুরস্কের কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এক তুর্কি কর্মকর্তা বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রুটিন মাফিক জাহাজ আসা বা কার্গো ফ্লাইটকে নতুন সামরিক সহায়তা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। তুরস্ক তখন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিল।
রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ভারতে তুরস্কের বাণিজ্যিক স্বার্থ বড় ধরনের আঘাত আসে। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতের ৯টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম চালানো তুর্কি কোম্পানি সেলেবি এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস-এর সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাতিল করে দিল্লি। এয়ার ইন্ডিয়াও তাদের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তার্কিশ টেকনিক-এর ওপর নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা দেয়।
এর প্রভাব পড়ে পর্যটন ও বাণিজ্যেও। তুর্কি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তুরস্কে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও হ্রাস পায়। সম্পর্ক মেরামতের পেছনে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















