ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলে মমতার ‘মা’ ক্যান্টিন বন্ধ, বিপাকে প্রান্তিক মানুষ

কলকাতার ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় হাসপাতালের সামনে, একসময় যেখানে ছিল ৫ রুপিতে ডাল-ভাত আর ডিমের ঝোল পাওয়ার দীর্ঘ লাইন, সেই পরিচিত দৃশ্য এখন উধাও। অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়ে আসায় কলকাতার অন্তত ৫০টি ‘মা’ ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য প্রান্তিক মানুষ।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনাকালে দরিদ্র মানুষের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পটি চালু করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে এই জনপ্রিয় উদ্যোগ থমকে গেছে।

ক্যান্টিনগুলো পরিচালনাকারী কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি) এবং বিভিন্ন এনজিও জানিয়েছে, রাজ্য সরকার থেকে খাদ্যসামগ্রী আসা বন্ধ হয়ে গেছে। চাল, ডাল, সবজি বা ডিমের নতুন কোনও সরবরাহ না থাকায় রান্নাঘর চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, নতুন বিজেপি সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা এই প্রকল্পের বিলগুলোতে সই করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

একটি এনজিওর সদস্য জানান, তারা প্রতিদিন আট হাজার মানুষের জন্য রান্না করতেন। কিন্তু সব রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা রান্না বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এসএসকেএম হাসপাতালের ভেতরকার দুটি ক্যান্টিন, কালীঘাট ব্রিজের পাশের ক্যান্টিন এবং ভবানীপুরের পূর্ণা সিনেমার সামনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো এখন জনশূন্য।

সম্প্রতি নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পর এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সেই সাধারণ মানুষগুলো, যাদের দুপুরের ভরসা ছিল এই ৫ রুপির থালি। পূর্ণা সিনেমার সামনে কাজ করা এক মুচি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি প্রায়ই এখান থেকে দুপুরের খাবার খেতাম। মাত্র ৫ রুপিতে পেট ভরে খাওয়া যেত। আমাদের মতো অনেক মানুষ এই ক্যান্টিনের ওপর নির্ভরশীল, এটি বন্ধ করা একদম ঠিক হবে না।’

সরবরাহকারী সংস্থাগুলো এনজিওদের জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তারা নতুন কোনও কাজের আদেশ পায়নি। আপাতত কিছু দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। সেদিনই হয়তো জানা যাবে, ৫ রুপির এই ‘মা’ ক্যান্টিনগুলো আবার খুলবে নাকি রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়ায় চিরতরে হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সৌদি আরবে দারুণ ওয়েস্টার্ন ড্রেস পাওয়া যায়’: ওমরাহ সফরের কেনাকাটা নিয়ে মুখ খুললেন মারিয়া মিম

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলে মমতার ‘মা’ ক্যান্টিন বন্ধ, বিপাকে প্রান্তিক মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:০৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কলকাতার ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় হাসপাতালের সামনে, একসময় যেখানে ছিল ৫ রুপিতে ডাল-ভাত আর ডিমের ঝোল পাওয়ার দীর্ঘ লাইন, সেই পরিচিত দৃশ্য এখন উধাও। অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়ে আসায় কলকাতার অন্তত ৫০টি ‘মা’ ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য প্রান্তিক মানুষ।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনাকালে দরিদ্র মানুষের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পটি চালু করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে এই জনপ্রিয় উদ্যোগ থমকে গেছে।

ক্যান্টিনগুলো পরিচালনাকারী কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি) এবং বিভিন্ন এনজিও জানিয়েছে, রাজ্য সরকার থেকে খাদ্যসামগ্রী আসা বন্ধ হয়ে গেছে। চাল, ডাল, সবজি বা ডিমের নতুন কোনও সরবরাহ না থাকায় রান্নাঘর চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, নতুন বিজেপি সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা এই প্রকল্পের বিলগুলোতে সই করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

একটি এনজিওর সদস্য জানান, তারা প্রতিদিন আট হাজার মানুষের জন্য রান্না করতেন। কিন্তু সব রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা রান্না বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এসএসকেএম হাসপাতালের ভেতরকার দুটি ক্যান্টিন, কালীঘাট ব্রিজের পাশের ক্যান্টিন এবং ভবানীপুরের পূর্ণা সিনেমার সামনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো এখন জনশূন্য।

সম্প্রতি নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পর এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সেই সাধারণ মানুষগুলো, যাদের দুপুরের ভরসা ছিল এই ৫ রুপির থালি। পূর্ণা সিনেমার সামনে কাজ করা এক মুচি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি প্রায়ই এখান থেকে দুপুরের খাবার খেতাম। মাত্র ৫ রুপিতে পেট ভরে খাওয়া যেত। আমাদের মতো অনেক মানুষ এই ক্যান্টিনের ওপর নির্ভরশীল, এটি বন্ধ করা একদম ঠিক হবে না।’

সরবরাহকারী সংস্থাগুলো এনজিওদের জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তারা নতুন কোনও কাজের আদেশ পায়নি। আপাতত কিছু দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। সেদিনই হয়তো জানা যাবে, ৫ রুপির এই ‘মা’ ক্যান্টিনগুলো আবার খুলবে নাকি রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়ায় চিরতরে হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়।