বিশ্বায়নের এই যুগে এক দেশের সংস্কৃতি ও জীবনধারা দ্রুত অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। খাবার, ফ্যাশন, সিনেমা, এমনকি বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক ‘দিবস’ বা থিমড ট্রেন্ডও সীমান্ত পেরিয়ে বৈশ্বিক রূপ নিচ্ছে। এমনই একটি আলোচিত ট্রেন্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় ‘সারারাত জেগে থাকার দিন’ বা ‘স্টে আপ অলনাইট’।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার ঘিরে কিছু লাইফস্টাইল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন কমিউনিটিতে এই দিনটিকে ঘিরে বিশেষ উচ্ছ্বাস দেখা যায়। যদিও এটি কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ছুটি নয়, তবুও তরুণদের মধ্যে রাতভর জেগে থাকার একটি ‘ফান ট্রেন্ড’ হিসেবে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
একসময় কোনো দেশের নিজস্ব উৎসব বা দিবস সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা অন্য কোনো অঞ্চলের লাইফস্টাইল ট্রেন্ড মুহূর্তের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। ‘সারারাত জেগে থাকা’র এই ধারণাটিও অনেকের কাছে এখন কৌতূহলের বিষয়। কেউ এটিকে নিছক মজা হিসেবে নেয়, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে রাতভর আড্ডার অজুহাত বানায়, আবার কেউ এটাকে নিজের দৈনন্দিন রুটিন থেকে এক রাতের ‘ব্রেক’ হিসেবে দেখে।
এই ট্রেন্ডের পেছনে কোনো জটিল ইতিহাস বা রাজনৈতিক তাৎপর্য নেই। মূলত এটি একটি লাইফস্টাইল-ভিত্তিক থিম, যেখানে মানুষ এক রাত জেগে সিনেমা দেখা, গেম খেলা, আড্ডা দেওয়া বা নিজের মতো করে সময় উপভোগ করে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সারারাত জেগে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়। এতে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট হয়, ক্লান্তি বাড়ে এবং মানসিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বায়নের এই যুগে এক দেশের ‘মজার’ ধারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সব ট্রেন্ডই যে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়, সে বিষয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 

























