ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনে ‘ইঁদুর-বেড়াল’ খেলা: যানজট ও জনভোগান্তি চরমে

রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) গত মাসে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পুনর্বাসনের সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই এই কার্যক্রম চলায় উচ্ছেদকৃত হকাররা ফের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসেছে। এতে নগরীতে তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি ফিরে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে নগরবাসী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই সিটি করপোরেশন তড়িঘড়ি করে হকারদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ‘হকার কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি হকার এই কার্ড নিয়ে পুনরায় ফুটপাতে বসছেন। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া ফুটপাতে বসার বৈধতা দেওয়া নগরজীবনে দীর্ঘমেয়াদী বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলিস্তানসহ রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্ছেদ করা হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গুলিস্তানের রমনা ভবনসংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় সাদা দাগ কেটে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে। এসব নির্ধারিত স্থানে হকাররা ‘হকার কার্ড’-এর মাধ্যমে বসার অনুমতি পাচ্ছেন। নগরবাসীর অভিযোগ, এই উচ্ছেদ অভিযান ছিল কেবল ফুটপাতের ‘নিয়ন্ত্রণ’ পরিবর্তনের একটি সাজানো নাটক। আগে ফুটপাত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে থাকলেও এখন তা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অভিযোগ উঠেছে— বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল বা শ্রমিকদলের নেতাদের সুপারিশ ছাড়া ‘হকার কার্ড’ মিলছে না। এই কার্ড পেতে হকারদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে এবং দৈনিক ২০০ টাকা হারে চাঁদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলিস্তানে বসার জন্য ‘হকার কার্ড’ পাওয়া এক হকার জানান, ‘সিস্টেম আগেরটাই। টাকা ছাড়া দুনিয়ায় কিছু চলে না। তবে টাকা-পয়সা লাগলেও এখন একটা সুবিধা হয়েছে, আমরা এখন বৈধ হকার। পুলিশ তো আগে চাইলেই খেদিয়ে দিতে পারত বা দোকান ভাঙচুর করতে পারত— এখন আর পারবে না।’ ‘হকার কার্ড’ প্রত্যাশী সবুজ নামের এক হকার জানান, ইতোমধ্যে ১২০০ হকারের তালিকা করে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও আইডিয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনে ‘ইঁদুর-বেড়াল’ খেলা: যানজট ও জনভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) গত মাসে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পুনর্বাসনের সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই এই কার্যক্রম চলায় উচ্ছেদকৃত হকাররা ফের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসেছে। এতে নগরীতে তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি ফিরে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে নগরবাসী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই সিটি করপোরেশন তড়িঘড়ি করে হকারদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ‘হকার কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি হকার এই কার্ড নিয়ে পুনরায় ফুটপাতে বসছেন। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া ফুটপাতে বসার বৈধতা দেওয়া নগরজীবনে দীর্ঘমেয়াদী বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলিস্তানসহ রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্ছেদ করা হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গুলিস্তানের রমনা ভবনসংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় সাদা দাগ কেটে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে। এসব নির্ধারিত স্থানে হকাররা ‘হকার কার্ড’-এর মাধ্যমে বসার অনুমতি পাচ্ছেন। নগরবাসীর অভিযোগ, এই উচ্ছেদ অভিযান ছিল কেবল ফুটপাতের ‘নিয়ন্ত্রণ’ পরিবর্তনের একটি সাজানো নাটক। আগে ফুটপাত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে থাকলেও এখন তা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অভিযোগ উঠেছে— বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল বা শ্রমিকদলের নেতাদের সুপারিশ ছাড়া ‘হকার কার্ড’ মিলছে না। এই কার্ড পেতে হকারদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে এবং দৈনিক ২০০ টাকা হারে চাঁদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলিস্তানে বসার জন্য ‘হকার কার্ড’ পাওয়া এক হকার জানান, ‘সিস্টেম আগেরটাই। টাকা ছাড়া দুনিয়ায় কিছু চলে না। তবে টাকা-পয়সা লাগলেও এখন একটা সুবিধা হয়েছে, আমরা এখন বৈধ হকার। পুলিশ তো আগে চাইলেই খেদিয়ে দিতে পারত বা দোকান ভাঙচুর করতে পারত— এখন আর পারবে না।’ ‘হকার কার্ড’ প্রত্যাশী সবুজ নামের এক হকার জানান, ইতোমধ্যে ১২০০ হকারের তালিকা করে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে।