দেশজুড়ে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক কলহ, সামাজিক বিবাদ, রাজনৈতিক সংঘাত, আধিপত্য বিস্তার এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা—বিভিন্ন কারণ এই হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংসতার ধরণে পরিবর্তন এসেছে; অনেক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠজনরাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন বা এতে জড়িয়ে পড়ছেন, যা সমাজের অবক্ষয়ের একটি গভীর চিত্র তুলে ধরে।
সম্প্রতি গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি ময়মনসিংহে অপহৃত শিশুর নির্মম হত্যা, নরসিংদীতে শিশু নির্যাতনের মাধ্যমে প্রাণহানি, চট্টগ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পারিবারিক সহিংসতাজনিত মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যানুযায়ী, কেবল এপ্রিল মাসেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ২২ জন এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে ২৯৪ জন নারী ও শিশু মৃত্যুবরণ করেছেন। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৬ জন এবং গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। একই সময়ে অন্তত নয়জন নারী ও শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসে কেবল ঢাকা শহরেই ৫৭টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে প্রায় সাতশ পঞ্চাশ থেকে সাতশ সত্তোরটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা মাসে গড়ে প্রায় আড়াইশ। এর আগে, গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে কিশোর গ্যাং সংঘাত, জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরে অন্তত ৮৪০ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আটশ ছাড়িয়ে গেছে। এই সকল ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















