ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: কূটনৈতিক সমাধানের বদলে বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ বেছে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ ইরানের

কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযান’ বেছে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। হরমুজ প্রণালিতে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগের মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর মন্তব্য এলো।

আরাঘচি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধান আলোচনার টেবিলে আসে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসানে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবনার বিষয়ে আগামী শুক্রবার নিজেদের মতামত জানাবে ইরান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতালি সফরকালে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তিনি আশা করেন এটি একটি গুরুতর প্রস্তাব।

উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনও ইরানের হাতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প একটি মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু করলেও দ্রুতই তা স্থগিত করেন। ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ফেব্রুয়ারি থেকে ওই অঞ্চলে আটকে থাকা প্রায় দুই হাজার জাহাজকে মুক্ত করতে সহায়তা করা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে, যাতে তেহরানকে শর্ত মানতে চাপ দেওয়া যায়। এই পদক্ষেপ ইরানের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া ৭০টিরও বেশি ট্যাঙ্কারকে বাধা দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সব আইনি জটিলতা কাটিয়ে জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি মহসিন চৌধুরী

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: কূটনৈতিক সমাধানের বদলে বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ বেছে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ ইরানের

আপডেট সময় : ১১:২৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযান’ বেছে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। হরমুজ প্রণালিতে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগের মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর মন্তব্য এলো।

আরাঘচি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধান আলোচনার টেবিলে আসে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসানে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবনার বিষয়ে আগামী শুক্রবার নিজেদের মতামত জানাবে ইরান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতালি সফরকালে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তিনি আশা করেন এটি একটি গুরুতর প্রস্তাব।

উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনও ইরানের হাতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প একটি মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু করলেও দ্রুতই তা স্থগিত করেন। ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ফেব্রুয়ারি থেকে ওই অঞ্চলে আটকে থাকা প্রায় দুই হাজার জাহাজকে মুক্ত করতে সহায়তা করা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে, যাতে তেহরানকে শর্ত মানতে চাপ দেওয়া যায়। এই পদক্ষেপ ইরানের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া ৭০টিরও বেশি ট্যাঙ্কারকে বাধা দিচ্ছে।