ফুটবল মাঠে নিজের জালে বল জড়িয়ে ফেলার মতো ট্র্যাজেডি কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই সুখকর নয়। তবে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই যেন নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের শুরুতেই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। গ্রুপ পর্ব শেষ করে শেষ ৩২-এর লড়াই চলতেই আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা আগের সব আসরকে ছাড়িয়ে গেছে।
ইতিহাসের এই নতুন পাতাটি লেখা হয় শুক্রবার রাতে মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচে। সেখানে মিশরের রাইটব্যাক মোহামেদ হানির ভুলে নিজেদের জালে বল জড়ালে আসরের ১৩তম আত্মঘাতী গোলটি নিবন্ধিত হয়। এর মাধ্যমে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে হওয়া ১২টি আত্মঘাতী গোলের রেকর্ডটি ভেঙে যায়। এরপর আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে সংখ্যাটি আরও বেড়ে ১৪-তে পৌঁছায়, যখন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেস ভুলবশত নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আসরে আত্মঘাতী গোল বেড়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত ও কাঠামোগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, বিশ্বকাপের পরিধি বেড়ে ৩২ দল থেকে ৪৮ দলে উন্নীত হওয়ায় ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ভুলের ঝুঁকিও বেড়েছে। এছাড়া আধুনিক ফুটবলে ভিএআর (VAR) এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার ব্যবহারের ফলে জটলার মধ্যে হওয়া সূক্ষ্ম স্পর্শগুলোও এখন নিখুঁতভাবে ধরা পড়ছে।
টুর্নামেন্টের এখনো অনেকটা পথ বাকি। সামনে রয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচ। বর্তমান গাণিতিক হারে গোল হতে থাকলে এই সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে এখন ক্রীড়া বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
রিপোর্টারের নাম 























