দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়া নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে কোটি কোটি মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে মৌসুমি গড় তাপমাত্রার চেয়ে অস্বাভাবিক বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে, যা কোথাও কোথাও ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর ভয়াবহ প্রভাবে পাকিস্তান ও ভারতে হিটস্ট্রোকে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ নতুন না হলেও, বিজ্ঞানী ও আবহাওয়া সংস্থাগুলো এবারের তাপপ্রবাহের তীব্রতা, স্থায়িত্ব এবং বিস্তৃতিকে নজিরবিহীন বলে আখ্যায়িত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই আবহাওয়ার চরম বৈরিতা বাড়ছে এবং এই তীব্র তাপপ্রবাহ তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, উচ্চচাপ বলয়ের কারণে উষ্ণ বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে থাকছে, যা মেঘ তৈরিতে বাধা দিচ্ছে এবং সূর্যের তাপকে আরও বেশি মাত্রায় ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে দিচ্ছে। পাশাপাশি, কম বৃষ্টিপাত এবং এল নিনোর মতো পরিস্থিতিও শীতলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যেই এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছে যে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় এই মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া পূর্ব উপকূল, হিমালয় পাদদেশ এবং মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে, ভারতের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে মহারাষ্ট্রের আকোলা ও অমরাবতীতে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে হিটস্ট্রোকে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন।
পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগও সতর্ক করেছে যে, দেশটিতে তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। করাচিতে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
রিপোর্টারের নাম 
























