যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা ও দাফন তার নিজ বাড়িতেই সম্পন্ন হয়েছে। মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে বৃষ্টির মরদেহ দেশের মাটিতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার মা। মেয়ের চাচিকে জড়িয়ে ধরে তিনি বলছিলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেল? এখন আমি কাকে নিয়ে থাকবো? আমার বৃষ্টিকে তোমরা ফিরিয়ে দাও।’
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৃষ্টির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, বৃষ্টি উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারতেন। তাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রশাসন বৃষ্টির পরিবারের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, ঈদে পরিবারের সবাই যেন একসঙ্গে থাকতে পারে, সেজন্য বৃষ্টির পছন্দের নকশায় বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল। জুলাই মাসে দেশে ফিরে বৃষ্টির এই বাড়িটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো। তিনি আরও জানান, বৃষ্টি সবসময় বলতেন, পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে দেশের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করবেন। এখন তার একটাই দাবি, হত্যাকারীর যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
বাদ আসর চরগোবিন্দপুর উত্তরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার পরিকল্পনা ও ভাইয়ের করা নকশায় নবনির্মিত বাড়ির পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























