গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহতদের বাড়ি এই গ্রামেই। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর পৌঁছানোর পর থেকেই গোটা গ্রামজুড়ে চলছে মাতম। পরিবারের সদস্যরা হয়েছেন দিশেহারা, অনেকের আহাজারি থামছে না।
ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ গাজীপুর থেকে গোপালগঞ্জে আনা হবে। সেজন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে কবর। গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলে, মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পাগলপ্রায় ষাটোর্ধ্ব ফিরোজা বেগম। বুক চাপড়ে বিলাপ করতে করতে তিনি শুধু বলছেন, ‘আমার বাবারে মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার ধনডারে শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো রে আল্লাহ…।’ সন্তান ও নাতনিদের হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফিরোজা বেগম জানান, তার ছোট ছেলে রসুল মোল্লা আগের দিন নতুন জামা-প্যান্ট কিনেছিল। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাসায় গিয়েছিল, কে জানতো সেটাই ছিল তার শেষ যাওয়া! তিনি তার বুকের ধন রসুলকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই ঘরে পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনাটি ঘটে ভোরে। নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), ছেলে রসুল মোল্লা (১৮) এবং শারমিনের তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহাদাত ও ফিরোজা দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে শারমিন আক্তার ছিলেন তৃতীয় এবং রসুল মোল্লা সবার ছোট। তাদের বড় মেয়ে কয়েক বছর আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এখন একসঙ্গে আরও দুই সন্তানকে হারালেন তারা। নিহত শারমিন ও রসুলের চাচা খবির মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, বাবা-মায়ের সামনে সন্তানদের মেরে ফেললে তারা কীভাবে বেঁচে থাকবে। তার ভাই শাহাদাত একজন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)। অনেক কষ্ট করে অভাব-অনটনের মধ্যে সন্তানদের বড় করেছেন। রসুল মোল্লা গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং বড় বোন ফাতেমার বাসায় থাকতেন। ঘটনার আগের দিন রসুল শারমিনের বাসায় যাওয়ার পর রাত ৮টা থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সবাই ভেবেছিল হয়তো ফোনে চার্জ নেই।
রিপোর্টারের নাম 





















