ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: মানবপাচারের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশিরা, উদ্বেগ বাড়ছে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশিদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের এক যুবক রিয়াদ রশিদ (২৮) নিহত হওয়ার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে রিয়াদের মৃত্যুর খবর তার বাবা পান শুক্রবার সন্ধ্যায়।

এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন বাংলাদেশি মারা গেছেন বা কতজন জড়িয়েছেন, তার প্রকৃত সংখ্যা অজানা। গত মার্চে ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন তাদের অনুসন্ধানে জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ১০৪ জন বাংলাদেশি যুক্ত হয়েছেন এবং গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠন দুটির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মানবপাচারকারীরা প্রথমে ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি পুরুষদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে। এরপর তাদের দিয়ে রুশ ভাষায় লেখা এমন চুক্তিপত্রে সই করিয়ে নেয়, যা ভুক্তভোগীরা পড়তে পারেন না। পরবর্তীতে তৃতীয় একটি দেশের মধ্য দিয়ে তাদের দ্রুত রাশিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাচার করা হয়। সেখান থেকে তাদের ইউক্রেনে পাঠিয়ে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়।

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেঁচে ফেরা একজন ভুক্তভোগী বর্ণনা করেন, ‘রাশিয়ায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানানো হয়, তারা আমাকে যুদ্ধ করার জন্য কিনেছে।’

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল থেকেও কিছু পুরুষ স্বেচ্ছায় রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাদেরও নির্যাতনমূলক পরিবেশে থাকতে হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা থেকে ৭৫১ জন, নেপাল থেকে ৮৫১ জন এবং ভারত থেকে ১৭০ জন এই যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার ২৭৫ জন, নেপালের ১১৬ জন এবং ভারতের ২৩ জন মারা গেছেন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে নিয়োজিত করার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিবারগুলো কখনও কল্পনাও করেনি যে, বৈধ চাকরির জন্য বিদেশযাত্রা শেষ হবে যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের নাম যুক্ত করে। বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন একটি কাঠামোগত প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে, যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফরের প্রটোকলে পরিবর্তন: বিমানবন্দরে উপস্থিতির তালিকা সংক্ষিপ্ত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: মানবপাচারের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশিরা, উদ্বেগ বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশিদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের এক যুবক রিয়াদ রশিদ (২৮) নিহত হওয়ার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে রিয়াদের মৃত্যুর খবর তার বাবা পান শুক্রবার সন্ধ্যায়।

এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন বাংলাদেশি মারা গেছেন বা কতজন জড়িয়েছেন, তার প্রকৃত সংখ্যা অজানা। গত মার্চে ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন তাদের অনুসন্ধানে জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ১০৪ জন বাংলাদেশি যুক্ত হয়েছেন এবং গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠন দুটির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মানবপাচারকারীরা প্রথমে ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি পুরুষদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে। এরপর তাদের দিয়ে রুশ ভাষায় লেখা এমন চুক্তিপত্রে সই করিয়ে নেয়, যা ভুক্তভোগীরা পড়তে পারেন না। পরবর্তীতে তৃতীয় একটি দেশের মধ্য দিয়ে তাদের দ্রুত রাশিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাচার করা হয়। সেখান থেকে তাদের ইউক্রেনে পাঠিয়ে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়।

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেঁচে ফেরা একজন ভুক্তভোগী বর্ণনা করেন, ‘রাশিয়ায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানানো হয়, তারা আমাকে যুদ্ধ করার জন্য কিনেছে।’

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল থেকেও কিছু পুরুষ স্বেচ্ছায় রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাদেরও নির্যাতনমূলক পরিবেশে থাকতে হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা থেকে ৭৫১ জন, নেপাল থেকে ৮৫১ জন এবং ভারত থেকে ১৭০ জন এই যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার ২৭৫ জন, নেপালের ১১৬ জন এবং ভারতের ২৩ জন মারা গেছেন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে নিয়োজিত করার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিবারগুলো কখনও কল্পনাও করেনি যে, বৈধ চাকরির জন্য বিদেশযাত্রা শেষ হবে যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের নাম যুক্ত করে। বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন একটি কাঠামোগত প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে, যা দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।