সুদীর্ঘ ৩৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে ভারতের আমদাবাদ সিটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি)। ১৯৯২ সালে নিখোঁজ হওয়া ফারজানা দোশু রাধানপুরী ওরফে শবনমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে একটি বাড়ির ১৪ ফুট গভীর সেপটিক ট্যাংকের নিচ থেকে। এই ঘটনায় জীবিত ও মৃত মিলিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল আমদাবাদের ভাটভা এলাকার কুতুবনগরের একটি বাড়ি থেকে ফারজানা ওরফে শবনমের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, একটি পরিবার তাদের বাড়িতে ‘অশুভ আত্মা’ তাড়ানোর জন্য বিশেষ আচার পালন করছে এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। এরপর একটি পুরনো ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক দলের উপস্থিতিতে কুতুবনগরের ওই বাড়ির মেঝে খুঁড়ে মানুষের হাড়, দাঁত ও চুল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পুলিশ মুম্বাই ও ধোলকা থেকে ফারজানার ভাই ও বোনকে খুঁজে বের করে। তাদের রক্তের নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া হাড়ের ডিএনএ মিলে যাওয়ার পর গত ৮ মে ফরেনসিক বিভাগ নিশ্চিত করে, এটি নিখোঁজ ফারজানারই দেহ। এরপরই পুলিশ হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে।
পুলিশ এই ঘটনায় মোট চারজনকে অভিযুক্ত করেছে, যাদের মধ্যে দুইজন জীবিত এবং দুইজন মৃত। শামসুদ্দিন মুসাজি খেদাওয়ালা ও ইকবাল মুসাজি খেদাওয়ালা, এই দুই ভাই বর্তমানে জীবিত এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বন্ধু বলে পরিচিত আবদুলকরিম ইয়াকুবজি জাওরাওয়ালা এবং ওই বাড়ির মালিক সালিয়া বিবি সামাতখান পাঠান দুজনেই বর্তমানে মৃত।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সালিয়া বিবি মৃত্যুর আগে বাড়িটি দুই ভাগে ভাগ করে তার ছেলে ও মেয়েকে দিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে ফারজানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। আমদাবাদ সিটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি) জীবিত দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, আলামত নষ্ট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করেছে। মৃতদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিশেষ রিপোর্ট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে ডিসিবি।
রিপোর্টারের নাম 
























