পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের শাসন অবসানের জন্যই নয়, প্রতিবেশী বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নির্বাচনি বিতর্কের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই নির্বাচনে সীমান্ত ইস্যু নতুন মাত্রা পায় এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসে।
বিজেপির এই ভূমিধস জয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া জনঅসন্তোষ, দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং নারীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর পাশাপাশি বিজেপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোও তাদের বিজয়ে সহায়ক হয়েছে।
তবে, এসব বিচ্ছিন্ন বিষয়কে আদর্শিক ভিত্তি দিয়েছে ‘বাংলাদেশ ইস্যু’। এই ইস্যুটি জনঅসন্তোষকে ‘সভ্যতাগত নিরাপত্তা’র প্রশ্নে রূপান্তর করেছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গকে তার নিজস্ব অবস্থান খুঁজে নিতে বলা হয়েছে—হিন্দু না মুসলিম, শরণার্থী না অনুপ্রবেশকারী, সীমান্তাঞ্চল না জাতিরাষ্ট্র, বাঙালি না রাষ্ট্রবিরোধী।
বিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল বাংলাদেশকে এমন এক রাজনৈতিক ব্যাকরণে পরিণত করা, যার মাধ্যমে নাগরিকত্ব, জনসংখ্যা, কল্যাণনীতি এবং আনুগত্যের প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে।
রিপোর্টারের নাম 
























