জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জড়িতদের বিচারে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা আপস করা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা কোনো পুলিশ বা আমলার বিচার করছি না, আমরা অপরাধের বিচার করছি, খুনির বিচার করছি।”
রাজধানীর উত্তরা শহীদ মীর মুগ্ধ মঞ্চে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত এক গণশুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।
আমিনুল ইসলাম আরও জানান, দায়বদ্ধতা ও বিবেকের তাড়না থেকেই তারা শহীদ পরিবারের কাছে এসেছেন। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শুনে তদন্তে কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে, যার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
উত্তরা এলাকায় শহীদের প্রকৃত সংখ্যা ৭৭, ৮৭ কিংবা শতাধিক হতে পারে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যতজন শহীদ থাকুক না কেন, প্রত্যেক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা কোনো দলীয় বা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত করছেন না, কেবল প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে যেমন আসামি করা হবে না, তেমনি কোনো অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
গণশুনানিতে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি নির্দেশ দেন যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করতে হবে এবং কোনো অপরাধীর ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, শহীদদের সঙ্গে কখনো বেইমানি করা হবে না এবং প্রকৃত আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। সবার সহযোগিতা পেলে শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















