তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যটিতে সরকার গঠন নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনে জয়লাভের পর থালাপতি বিজয় নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেট্টি কাজগাম (টিভিকে) দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানালেও রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অন্যদিকে, বিজেপি জানিয়েছে যে রাজ্যপাল সংবিধান ও নিয়ম মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
বৃহস্পতিবার থালাপতি বিজয় যখন রাজ্যপালের বাসভবন লোকভবনে প্রবেশ করেন, তখন তাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। প্রায় ৪০ মিনিট তিনি রাজ্যপালের বাসভবনের ভেতরে ছিলেন। তবে রাজ্যপাল তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে লোকভবন বা টিভিকে-র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩৪ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় টিভিকে ১০৮টি আসন লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। কংগ্রেসের পাঁচজন বিধায়ক দলটিকে সমর্থন জানালেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তারা এখনও পিছিয়ে আছে।
বুধবার কংগ্রেসের সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন এই অভিনেতা-রাজনীতিক। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়ায় রাজ্যপাল বিষয়টি নিয়ে সময় নিচ্ছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে টিভিকে নেতা ভিএস বাবু সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখা যাক, খুব শীঘ্রই এটি হবে। এরপর কী হয়, সেটাও দেখা যাবে।’ কেন্দ্রীয় চাপের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যে বিষয়ে আমার ধারণা নেই, সে বিষয়ে আমি কথা বলবো না।’
এদিকে, বিজেপির মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি দাবি করেছেন যে সরকার গঠনের পুরো প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিকভাবেই সম্পন্ন হবে। তিনি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘লোকভবন বা রাজ্যপালকে নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। তিনি সংবিধান এবং নিয়ম অনুযায়ী চলবেন।’ তিনি আরও বলেন, জনগণ যেভাবে ভোট দিয়েছেন, তাতে কোনো একক দল পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সংবিধান অনুযায়ী, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে পারে, তারই সরকার গঠনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এবার কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আর ঠিক এই কারণেই লোকভবনের সিদ্ধান্ত অমীমাংসিত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























