ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

পুনর্গঠনের পথে স্বেচ্ছাসেবক দল: শীর্ষ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে বিএনপি সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি এবার দল ও অঙ্গ-সংগঠন পুনর্গঠনে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তরুণ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে একটি খসড়া তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কোরবানির ঈদের আগেই বা ঠিক পরে নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত এস এম জিলানী ও রাজীব আহসানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এবং রাজীব আহসান সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় তারা সংগঠনে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। তারা ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ইচ্ছা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বের পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের আগামী কমিটিতে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়তা, বিগত সময়ে জেল-জুলুম ও মামলা-হামলার শিকার হওয়া এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, সংগঠনকে জনসেবামুখী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দল থেকে চিরস্থায়ী বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য ইতিমধ্যে দুই ডজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। বর্তমান কমিটির ফখরুল ইসলাম রবিন, ইয়াসিন আলী, নাজমুল হাসান, মোক্তার হোসেন এবং আব্দুর রহিম হাওলাদার পদপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে হাবিবুর রশিদ হাবিব, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুল হক খোকন, আকরামুল হাসান ও বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং উত্তরের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী।

পদপ্রত্যাশী নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ত্যাগ ও অবদানের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। তারা মনে করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দল একটি গতিশীল ও আধুনিক সংগঠনে পরিণত হবে, যা সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে জনসেবায় নিবেদিত থাকবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওরে সংকট, ফসল রক্ষায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

পুনর্গঠনের পথে স্বেচ্ছাসেবক দল: শীর্ষ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে বিএনপি সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি এবার দল ও অঙ্গ-সংগঠন পুনর্গঠনে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তরুণ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে একটি খসড়া তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কোরবানির ঈদের আগেই বা ঠিক পরে নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত এস এম জিলানী ও রাজীব আহসানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এবং রাজীব আহসান সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় তারা সংগঠনে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। তারা ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ইচ্ছা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বের পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের আগামী কমিটিতে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়তা, বিগত সময়ে জেল-জুলুম ও মামলা-হামলার শিকার হওয়া এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, সংগঠনকে জনসেবামুখী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দল থেকে চিরস্থায়ী বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য ইতিমধ্যে দুই ডজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। বর্তমান কমিটির ফখরুল ইসলাম রবিন, ইয়াসিন আলী, নাজমুল হাসান, মোক্তার হোসেন এবং আব্দুর রহিম হাওলাদার পদপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে হাবিবুর রশিদ হাবিব, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুল হক খোকন, আকরামুল হাসান ও বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং উত্তরের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী।

পদপ্রত্যাশী নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ত্যাগ ও অবদানের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। তারা মনে করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দল একটি গতিশীল ও আধুনিক সংগঠনে পরিণত হবে, যা সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে জনসেবায় নিবেদিত থাকবে।