বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের উৎসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের ওলটপালট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত অর্থবছরে যে যুক্তরাষ্ট্র রেমিট্যান্সের শীর্ষ উৎস ছিল, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই সেখানে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অন্যদিকে, তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসী আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যেও অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে; সংযুক্ত আরব আমিরাতকে টপকে শীর্ষে ফিরেছে সৌদি আরব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে প্রবাসীরা মোট ২,৯৩২ কোটি ২০ লাখ (২৯.৩২ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৫৪ শতাংশ বেশি। তবে দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে বৈচিত্র্যময় চিত্র:
- শীর্ষে সৌদি আরব: ৪৭৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার পাঠিয়ে তালিকার এক নম্বরে রয়েছে দেশটি। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি।
- যুক্তরাজ্যের চমক: ৪০৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলার পাঠিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য। গত বছরের তুলনায় এখান থেকে আয় বেড়েছে রেকর্ড ৬৪ শতাংশ।
- যুক্তরাষ্ট্রের পতন: গতবারের শীর্ষস্থান থেকে নেমে এখন পঞ্চম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র (২৫২ কোটি ২১ লাখ ডলার)। দেশটির রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ।
- অন্যান্য: ৩৮১ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাত তৃতীয় এবং ৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে মালয়েশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
হঠাৎ এই উত্থান-পতনের কারণ কী?
রেমিট্যান্সের উৎসে এমন পরিবর্তনের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা:
হিসাব পদ্ধতির পরিবর্তন: আগে মাস্টারকার্ড বা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মতো বৈশ্বিক এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রের গেটওয়ে ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাঠাত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের আয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নামে জমা হতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় এখন ‘অরিজিন’ বা যে দেশ থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে, সেই দেশের নাম উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করায় প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠছে।
পাচার হওয়া অর্থের প্রভাব: অর্থনীতিবিদদের মতে, অনেক সময় পাচার হওয়া টাকা রেমিট্যান্স আকারে দেশে ফিরে আসে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এমন কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক্সচেঞ্জ হাউজের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্র ও আমিরাতে নিবন্ধিত এক্সচেঞ্জ হাউজ বেশি হওয়ায় আগে অন্য দেশের আয়ও এই দুই দেশের নামে দেখানো হতো। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এই পদ্ধতিতে সংশোধন আনায় তালিকার নিচের দিকে নেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পরিশোধিত এই পরিসংখ্যানের ফলে এখন বোঝা যাচ্ছে যে, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো থেকে প্রকৃত অর্থেই বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। তবে যুক্তরাজ্যের এই আকস্মিক উল্লম্ফন নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও গবেষকদের মধ্যে এখনও কৌতূহল ও বিশদ অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























