ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

তিস্তা নদী বিস্তৃত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) কার্যক্রমে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর কাছে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমানের এটাই ছিল চীন সফর। সেখানে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি মেনে চলা, উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশ সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রেজ্যুলিউশন ২৭৫৮-এর কর্তৃত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং এটিকে প্রশ্নাতীত বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশ ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র তীব্র বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনর্মিলন অর্জনে চীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।

অন্যদিকে, চীনও জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়া উন্নয়ন পথের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কালে একটি ভালো সূচনা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ চীনকে অভিনন্দন জানিয়েছে। চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে তার রাজনৈতিক এজেন্ডা এগিয়ে নিতে সমর্থন করে। উভয় পক্ষ উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতা বৃদ্ধি, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশযাত্রায় বাধা তিন দিন পর প্রত্যাহার, তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে স্বস্তি

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

তিস্তা নদী বিস্তৃত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) কার্যক্রমে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর কাছে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমানের এটাই ছিল চীন সফর। সেখানে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি মেনে চলা, উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশ সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রেজ্যুলিউশন ২৭৫৮-এর কর্তৃত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং এটিকে প্রশ্নাতীত বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশ ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র তীব্র বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনর্মিলন অর্জনে চীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।

অন্যদিকে, চীনও জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়া উন্নয়ন পথের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কালে একটি ভালো সূচনা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ চীনকে অভিনন্দন জানিয়েছে। চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে তার রাজনৈতিক এজেন্ডা এগিয়ে নিতে সমর্থন করে। উভয় পক্ষ উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতা বৃদ্ধি, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।