বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৩৬২ কোটি ৪৯ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব ফাঁকি ও তা পরিশোধে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। বছরের পর বছর মোটা অঙ্কের মুনাফা করলেও সরকারের পাওনা শুল্ক-কর পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটির এই গড়িমসি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম প্রায় ২ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যার গড় বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৬৪ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫৪২ কোটি টাকা মুনাফা করার রেকর্ড থাকলেও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ৪৬৩টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মোট পাওনা ছিল ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট ১ হাজার ৩৬২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়ে গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি পর্যায়ে কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, আগাম কর ও আয়কর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক হলেও মেঘনা পেট্রোলিয়াম তা করেনি। এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শুনানিতে উপস্থিত হয়ে পাওনার হিসাব নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন এবং শুধুমাত্র কাস্টমস ডিউটি প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে দাবি করেন। তবে কাস্টমস আইন ১৯৬৯ এবং আয়কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির এই দাবি নাকচ করে দিয়ে চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করা হয়েছে।
বিপিসির অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেমন—পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির বিরুদ্ধেও একই ধরনের শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না দিলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এই বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীরুল হাসানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























