দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ তিনজনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৪ মে) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন।
আয়কর নথি জব্দের এই আদেশ অন্য দুই ব্যক্তি হলেন কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের সাবেক সহকারী কমিশনার ভূইয়া মফিজুর রহমান এবং ঢাকার দোহার থানার সাবেক ওসি মোস্তফা কামালের স্ত্রী খন্দকার শামীমা হাসান। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম মায়াসহ তিনজনের আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত এক কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ২৬১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং নিজ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৫১০ কোটি ৩৭ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৫ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মায়ার আয়কর নথির রেকর্ডপত্র জব্দ করা অত্যন্ত জরুরি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৯৩ টাকা মূল্যের সম্পদ নিজের নামে করেছেন। এছাড়া, গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এক কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন এবং ভোগ দখলে রেখেছেন। এই বিষয়েও দুদক মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্তের স্বার্থে তার আয়কর নথির রেকর্ডপত্র জব্দ করা প্রয়োজন।
শামীমা হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি তার স্বামীর (মোস্তফা কামাল) ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং স্বামীর আর্থিক সহায়তায় জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এক কোটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখেছেন। এক্ষেত্রেও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার আয়কর নথির রেকর্ডপত্র জব্দ করার আবেদন করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















