সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি দোষারোপের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ডাকসুকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন না। উপাচার্যের ভাষ্যমতে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সম্মতি পাওয়া যায়নি, যার ফলে মাঠটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
তবে উপাচার্যের এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন। তিনি পাল্টা দাবি করেন যে, এটি কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সবাই একমত ছিলেন যে খেলার মাঠ দেওয়া ঠিক হবে না। আরমান স্পষ্ট করে বলেন, তার কাছে আলাদাভাবে কোনো মতামত চাওয়া হয়নি এবং পুরো প্রশাসনই এই অবস্থানে অনড় ছিল।
একই সুরে কথা বলেছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি জানান, এই বিষয়ে ডাকসুর সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা চিঠি আদান-প্রদান করা হয়নি। প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায়ভার ডাকসুর ওপর চাপানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা সত্ত্বেও শুরুর দিকে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাসে রাজশাহীতে একাধিক শিশুর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। বর্তমানে হাম ও এর আনুষঙ্গিক জটিলতায় দেশে ৩০০ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাবির কেন্দ্রীয় মাঠে চিকিৎসা কেন্দ্র করার কথা থাকলেও আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত এক সপ্তাহ বিলম্বে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অডিটরিয়াম চত্বরে ২০ শয্যার একটি অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















