ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

টেলিগ্রামের আড়ালে চলছে গোপন ছবি-ভিডিওর জমজমাট কারবার; ধরাই পড়ছে না মূল হোতারা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও রাজধানীতে পর্নোগ্রাফি চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না। ফেসবুকের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে কৌশলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে তা টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এক ভয়াবহ জাল বিস্তার করেছে অপরাধীরা। মাত্র ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এসব চ্যানেলের সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করা হচ্ছে, যা ভুক্তভোগী নারীদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অপরাধীরা প্রথমে ফেসবুকের বিভিন্ন পাবলিক গ্রুপে আকর্ষণীয় বা উস্কানিমূলক ‘চুম্বক অংশ’ প্রচার করে। এরপর আগ্রহী গ্রাহকদের নির্দিষ্ট লিংকের মাধ্যমে টেলিগ্রামের প্রাইভেট চ্যানেলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে নারীদের গোপন ভিডিও ও ছবি দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা হলেও মূল অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাতেই (ডিএমপি) প্রতি মাসে গড়ে ১৪টি পর্নোগ্রাফি মামলা হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যথাক্রমে ১৪, ১২ ও ১৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

সিআইডির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে তারা পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত ৪৮০টি অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসেই সেই সংখ্যা ২৩৭ ছাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, একটি চ্যানেল বন্ধ করা হলে মুহূর্তের মধ্যেই নতুন আরেকটি চ্যানেল খুলে কার্যক্রম শুরু করে এই সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশের সার্ভার বা ভিপিএন ব্যবহারের কারণে মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতাই এই অপরাধ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন শাখা জানিয়েছে, আবেগ বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে মানুষ অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেলে, যা পরবর্তীতে মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা দুরুহ হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা চুক্তি: দীর্ঘ দেড় দশকের অচলাবস্থা নিরসনে নতুন আশার আলো

টেলিগ্রামের আড়ালে চলছে গোপন ছবি-ভিডিওর জমজমাট কারবার; ধরাই পড়ছে না মূল হোতারা

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও রাজধানীতে পর্নোগ্রাফি চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না। ফেসবুকের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে কৌশলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে তা টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এক ভয়াবহ জাল বিস্তার করেছে অপরাধীরা। মাত্র ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এসব চ্যানেলের সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করা হচ্ছে, যা ভুক্তভোগী নারীদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অপরাধীরা প্রথমে ফেসবুকের বিভিন্ন পাবলিক গ্রুপে আকর্ষণীয় বা উস্কানিমূলক ‘চুম্বক অংশ’ প্রচার করে। এরপর আগ্রহী গ্রাহকদের নির্দিষ্ট লিংকের মাধ্যমে টেলিগ্রামের প্রাইভেট চ্যানেলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে নারীদের গোপন ভিডিও ও ছবি দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা হলেও মূল অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাতেই (ডিএমপি) প্রতি মাসে গড়ে ১৪টি পর্নোগ্রাফি মামলা হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যথাক্রমে ১৪, ১২ ও ১৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

সিআইডির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে তারা পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত ৪৮০টি অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসেই সেই সংখ্যা ২৩৭ ছাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, একটি চ্যানেল বন্ধ করা হলে মুহূর্তের মধ্যেই নতুন আরেকটি চ্যানেল খুলে কার্যক্রম শুরু করে এই সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশের সার্ভার বা ভিপিএন ব্যবহারের কারণে মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতাই এই অপরাধ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন শাখা জানিয়েছে, আবেগ বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে মানুষ অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেলে, যা পরবর্তীতে মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা দুরুহ হয়ে পড়বে।