ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ দেড় দশকের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবারের মতো রাজ্যে মোদী সরকারের জয়লাভের ফলে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত সমস্যা এবং পুশ-ইন বা পুশ-ব্যাকের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের বাংলাদেশ নিয়ে করা কিছু বিতর্কিত মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনো অস্বস্তি তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়, যা ভারতের পণ্য বয়কট এবং ভিসা কার্যক্রম সীমিত হওয়ার মতো ঘটনায় আরও ঘনীভূত হয়েছিল। তবে ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সময়ে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা দৃশ্যমান। এমন এক সন্ধিক্ষণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদল দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে তিস্তা চুক্তি থমকে থাকলেও এখন বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে মিলে কোনো সমাধানে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, নির্বাচনের আগে ভারতীয় নেতাদের কিছু মন্তব্য দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, বিজেপি সরকারের হিন্দুত্ববাদী ও সাম্প্রদায়িক আদর্শ উদ্বেগের কারণ হলেও এটি সরাসরি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে না। তবে শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলছে।
বিপরীতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই নির্বাচনকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার পরিবর্তন হলেও দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে। একইভাবে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মনে করেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান বৈশ্বিক রাজনীতির সংকটেরই অংশ, তবে সাধারণ মানুষ অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নেবে। সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আশ্বস্ত করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, বাংলাদেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া একই থাকবে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























