বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশের শিল্পখাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, রুগ্ন ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।” এই প্রক্রিয়া আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “ডিসিরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল স্থাপন, বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল পুনরায় চালু করা এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধির মতো কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাবনা দিয়েছেন। সরকার এসব প্রস্তাবনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআই-ভিত্তিক) সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি যোগ করেন, “এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা—প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, টিসিবি-কে আরও শক্তিশালী করার জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
রিপোর্টারের নাম 



















