১৮৬২ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি। কলকাতার আলিপুরে, যেখানে বর্তমানে ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগার অবস্থিত, সেই বেলভেডিয়ারে বসেছিল এক ঐতিহাসিক সভা। এটি ছিল বাংলার প্রথম ‘লেজিসলেটিভ কাউন্সিল’ বা আইনসভার প্রথম অধিবেশন। এই আইনসভা গঠিত হয়েছিল বছর খানেক আগে পাশ হওয়া ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস্ অ্যাক্ট অনুযায়ী। তৎকালীন বাংলার গভর্নর জন পিটার গ্রান্ট এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছিলেন।
বিধানসভার ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, তখন আইনসভার অধিবেশন প্রতি শনিবার বেলা ১১টায় বসত। তবে সেই সময়ে নির্বাচন হতো না; ১২ জন সদস্যই ছিলেন মনোনীত। প্রায় ৩০ বছর পর, ১৮৯২ সালে আইনসভার সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ২০ করা হয় এবং প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সদস্যদের যুক্ত করার জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়। এই সময় থেকেই আইনসভায় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, আলোচনা এবং বার্ষিক বাজেট গ্রহণের মতো ঐতিহ্য শুরু হয়।
১৯০৯ সালে আইনসভার সদস্য সংখ্যা আরও বেড়ে ৫০ হয়। এই সময়ে এমন পরিবর্তন আনা হয় যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা সরকারের বাইরে থেকে যুক্ত হতে শুরু করেন, যা আগের ব্রিটিশ সরকারের পছন্দের ব্যক্তিদের রাখার প্রথার পরিবর্তন ঘটায়।
সদস্য সংখ্যা দশ বছর পর, ১৯১৯ সালে এক লাফে ১২৫-এ উন্নীত হয়। ওই বছরই এমন আইন পাশ হয় যে, সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০-তে সীমাবদ্ধ থাকবে। আইনসভা পরিচালনার জন্য স্পিকারের ধারণাও এই ১৯১৯ সালের আইনেই এসেছিল। তবে তখন পদটির নাম ছিল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং ডেপুটি প্রেসিডেন্ট। শুরুতে গভর্নর নিজেই সভার প্রেসিডেন্ট মনোনীত করতেন, কিন্তু পরে আইনসভার সদস্যদের মধ্য থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হতো, যদিও তাতে গভর্নরের সম্মতি লাগত। সেই সময় থেকেই আইনসভার পরিচালনার ভার গভর্নরের হাত থেকে প্রেসিডেন্টের উপর বর্তায়।
১৯১৯ সালের আইন অনুযায়ী, বঙ্গীয় প্রাদেশিক বিধান পরিষদ নামে এই আইনসভা আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯২১ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে।
রিপোর্টারের নাম 























