মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্ন আমদানির ওপর জোর দিয়েছে জাতীয় সংসদের নবগঠিত বিশেষ কমিটি। রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বর্তমান সংকটকে ‘কৃত্রিম’ ও ‘মনস্তাত্ত্বিক’ চাপের ফল হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ে। বিশেষ কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি মজুদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় আমদানিতে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে জাহাজ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
কমিটির সদস্য মো. আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রণালয় বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আপাতত দেশে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে কমিটিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির কাজ সম্পর্কে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংসদে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হবে। পরবর্তী বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটির উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সম্বলিত প্রতিবেদন উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























