আধুনিক বিশ্বের অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের কল্যাণে পৃথিবী হাতের মুঠোয় এলেও এর আড়ালে তৈরি হচ্ছে এক ভয়ংকর আসক্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ডিজিটাল ডিপেনডেন্সি’ বা ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার বলা হয়, যা অনেকটা মাদকাসক্তির মতোই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন ডিজিটাল স্ক্রিনে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে শহরাঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে চার ঘণ্টার বেশি সময় ইন্টারনেটে কাটায়। এই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নানা শারীরিক জটিলতা। এর মধ্যে ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’ এবং মেরুদণ্ডের সমস্যা ‘টেক্সট নেক সিনড্রোম’ অন্যতম।
ডিভাইস আসক্তির ফলে মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা অ্যাটেনশন স্প্যান আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। একবার মনোযোগ বিঘ্নিত হলে তা পুনরায় ফিরে পেতে গড়ে প্রায় ২৩ মিনিট সময় লাগে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের কৃত্রিম জীবন দেখে নিজেদের মধ্যে হীনম্মন্যতা ও বিষণ্ণতা তৈরি হচ্ছে। এই আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে সচেতনতা এবং প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
রিপোর্টারের নাম 
























