ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী করাতি পেশা: যান্ত্রিকতায় ফিকে হচ্ছে কাঠের সেই সুর

একসময় গ্রামবাংলার জনপদে অতি পরিচিত এক দৃশ্য ছিল করাতিদের গাছ কাটার ছন্দময় কাজ। বড় বড় করাত দিয়ে গাছ চেরাই করার সময় তাদের সম্মিলিত সুর আর গানের মূর্ছনা দেখতে ভিড় জমাতেন উৎসুক মানুষ। তবে কালের বিবর্তনে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির দাপটে সেই ঐতিহ্যবাহী করাতি পেশা আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একসময় এই পেশার মানুষের সরব উপস্থিতি থাকলেও এখন আর আগের মতো তাদের দেখা মেলে না।

অতীতের সেই দিনগুলোতে শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই করাতিরা দল বেঁধে বের হতেন। কাঁধে বড় করাত, হাতে কুড়াল আর মোটা দড়ি নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতেন তারা। তাদের হাঁকডাকে গৃহস্থরা গাছ চেরাইয়ের জন্য প্রস্তুত হতেন। মূলত কাঠ দিয়ে ঘরের খুঁটি, তক্তা কিংবা রুয়া তৈরির জন্য করাতিরাই ছিল একমাত্র ভরসা। তবে বর্তমানে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত যান্ত্রিক স-মিল বা করাত কলের বিস্তার ঘটায় এই কায়িক শ্রমের চাহিদা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকেই বাপ-দাদার এই আদি পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

আগেকার দিনে করাতিরা মাটিতে গর্ত করে বা বিশেষ কাঠের কাঠামো তৈরি করে গাছ কাটতেন। একটি দলে চার-পাঁচজন সদস্য থাকতেন, যার মধ্যে একজন রান্নার দায়িত্ব পালন করতেন। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর পান্তা ভাত বা লাল আটার রুটি ছিল তাদের প্রধান খাবার। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ৩৫-৪০ বছর আগেও করাতিদের কদর ছিল আকাশচুম্বী। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এই প্রাচীন পেশাটিকে এখন ইতিহাসের পাতায় ঠেলে দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন ও দেশে হামের প্রাদুর্ভাব: সায়েন্স জার্নালের রিপোর্ট

বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী করাতি পেশা: যান্ত্রিকতায় ফিকে হচ্ছে কাঠের সেই সুর

আপডেট সময় : ০১:০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

একসময় গ্রামবাংলার জনপদে অতি পরিচিত এক দৃশ্য ছিল করাতিদের গাছ কাটার ছন্দময় কাজ। বড় বড় করাত দিয়ে গাছ চেরাই করার সময় তাদের সম্মিলিত সুর আর গানের মূর্ছনা দেখতে ভিড় জমাতেন উৎসুক মানুষ। তবে কালের বিবর্তনে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির দাপটে সেই ঐতিহ্যবাহী করাতি পেশা আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একসময় এই পেশার মানুষের সরব উপস্থিতি থাকলেও এখন আর আগের মতো তাদের দেখা মেলে না।

অতীতের সেই দিনগুলোতে শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই করাতিরা দল বেঁধে বের হতেন। কাঁধে বড় করাত, হাতে কুড়াল আর মোটা দড়ি নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতেন তারা। তাদের হাঁকডাকে গৃহস্থরা গাছ চেরাইয়ের জন্য প্রস্তুত হতেন। মূলত কাঠ দিয়ে ঘরের খুঁটি, তক্তা কিংবা রুয়া তৈরির জন্য করাতিরাই ছিল একমাত্র ভরসা। তবে বর্তমানে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত যান্ত্রিক স-মিল বা করাত কলের বিস্তার ঘটায় এই কায়িক শ্রমের চাহিদা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকেই বাপ-দাদার এই আদি পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

আগেকার দিনে করাতিরা মাটিতে গর্ত করে বা বিশেষ কাঠের কাঠামো তৈরি করে গাছ কাটতেন। একটি দলে চার-পাঁচজন সদস্য থাকতেন, যার মধ্যে একজন রান্নার দায়িত্ব পালন করতেন। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর পান্তা ভাত বা লাল আটার রুটি ছিল তাদের প্রধান খাবার। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ৩৫-৪০ বছর আগেও করাতিদের কদর ছিল আকাশচুম্বী। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এই প্রাচীন পেশাটিকে এখন ইতিহাসের পাতায় ঠেলে দিচ্ছে।