পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণে এখন এক বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন সাবেক ছিটমহলবাসীরা। দীর্ঘ কয়েক দশকের বঞ্চনা আর পরিচয়হীনতার গণ্ডি পেরিয়ে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক স্থল-সীমা চুক্তির মাধ্যমে তারা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক অধিকার। এক সময় যেসব জনপদ ছিল মানচিত্রের বাইরের ভূখণ্ড, আজ সেখানে বইছে উন্নয়নের হাওয়া এবং আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের রাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে বহুগুণ।
দুই দশক আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করলে দেখা যায় এক আমূল পরিবর্তন। কোচবিহারের পোয়াতুরকুঠির মতো এক সময়ের বাংলাদেশি ছিটমহলগুলোতে আগে যেখানে পায়ে হাঁটা আলপথই ছিল একমাত্র ভরসা, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে পাকা রাস্তা। আগে যেখানে সীমান্ত নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা ছিল, এখন সেখানে স্থায়ী সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের ফলে কয়েক হাজার মানুষ লাভ করেছেন কাঙ্ক্ষিত নাগরিকত্ব।
সাবেক এই ছিটমহলবাসীরা এক সময় রাষ্ট্রহীন নাগরিক হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করতেন। কোনো আইনি পরিচয় না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক অধিকার থেকে তারা ছিলেন বঞ্চিত। তবে বর্তমানে তারা কেবল ভোটারই নন, বরং স্থানীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখছেন। অতীতের সেই অন্ধকার দিনগুলো পেছনে ফেলে নতুন পরিচয়ে তাদের এই পথচলা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















